শিক্ষা গ্রহণের উপর জোড় দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. জাফর ইকবাল। বৃহস্পতিবার তিনি শহরের সরকারি সতীশচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন । তাঁর আসার সংবাদে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মধ্যে সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছিলো। কে কী করবে, কোন প্রজেক্ট বানাবে এমনসব কাজ নিয়ে আগের সপ্তাহখানেক ভীষণ ব্যস্ত ছিল সতীশচন্দ্রের বালিকারা। নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নদী তালুকদার স্যারের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাবে না জেনে কয়েক দিন পরিশ্রম করে খোলা চিঠি লিখেছে। চিঠিটি সে তার প্রিয় জাফর ইকবাল এর কাছে শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে কিনা জানি না, তবে নদীর চিঠিটি দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর ছেপেছে। ছেপেছে এই কারণে যে শিশু-কিশোর মনে ড. জাফর ইকবালের যে অসামান্য প্রভাব রয়েছে সেটি ধারণ করে। ড. জাফর ইকবাল একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী, আমেরিকার লোভনীয় চাকুরির প্রস্তাব ছেড়ে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ চালু করার চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি জনপ্রিয় শিশু সাহিত্যিক। শিশু-কিশোররা তাঁর লেখা গোগ্রাসে পড়ে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে কাজ করেন। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কলাম লিখে একটি সুন্দর, প্রগতিমুখী, যুক্তিবাদী তথা সমতাভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে জনসাধারণকে অনবরত উদ্বুদ্ধ করেন। এমন বহুমুখী প্রতিভাধর ব্যক্তিকে ঘিরে তাই বৃহস্পতিবারের আবেগ-উচ্ছ্বাসটি কেবল ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ছড়িয়ে পড়েছিল বড়দের মধ্যেও। তিনি কী বলছেন সেদিকে ছিল গণমাধ্যমের নজর।
তিনি পৃথিবীর নানা উন্নত দেশের উদাহরণ টেনে শিক্ষায় বিনিয়োগের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা জ্ঞানভিত্তিক কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই তিনি উচ্চ শিক্ষার উপর জোড় দিয়েছেন বেশি করে। তাঁর অভিমত হলো, ৪ কোটি শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষিত হলেই দেশ সম্পদে ভরপুর হবে। তাঁর কথাগুলো শিশু-কিশোররা মন দিয়ে শুনেছে, তারা আত্মস্থ করার চেষ্টা করেছে স্যার আসলে কী বলতে চাইছেন। ড. জাফর ইকবাল যেহেতু বলছেন সেহেতু কথাগুলো অভ্রান্তই হবে, এমনই বদ্ধমূল বিশ্বাস শিক্ষার্থীদের। এমন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সান্নিধ্যে যত বেশি সময় কাটানো যায় তত বেশি আলোকিত হওয়ার সুযোগ ঘটে। এই জায়গায় ড. জাফর ইকবালের দায়ও তাই কম কিছু নয়। কারণ ভুল করে ভুল কথা বলে ফেললেও সেটিকেই সত্য ধরে নিবে অন্যরা। এমন জায়গায় থেকে তাঁকে সতর্কভাবেই ভাব ও কথা প্রকাশ করতে হয়। সুনামগঞ্জের শিশু-কিশোর মেলায় তিনি এমন একটি দায়িত্ববোধ থেকেই কথা বলেছেন।
আমাদের সমাজে প্রভাবক ব্যক্তির পরিমাণ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। আদর্শ মানার মতো ব্যক্তি দিন দিন নাই হয়ে যাচ্ছে। অথচ এই সমাজ এগিয়েছে আলোকিত মহানুভবদের অনুসরণ করেই। সমাজকে যদি আমরা প্রত্যাশিত উচ্চস্থানে দেখতে চাই তাহলে অবশ্যই এইসব মহৎ ব্যক্তির বিচরণ বাড়াতে হবে। ফেরিওয়ালার মতো করে সারা দেশে আদর্শ ও বিশ্বাসের কথা প্রচার করতে হবে তাঁদের। এইসব কথা শুনে তৈরি হবে এক আলোকিত প্রজন্ম যারা আমাদের প্রিয় দেশটিকে নিয়ে যাবে অনতিক্রম্য উচ্চতায়। যারা ড. জাফর ইকবালের স্পর্শে এসেছিলে, তোমাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশাÑ নিজেরা আলোকিত হও দেশকে উজ্জ্বল করো।
- ৪ কোটি শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষিত হলেই দেশ সম্পদে ভরপুর হবে -ড. জাফর ইকবাল
- গমের পর এবার পচা চাল আমদানি করছে সরকার -রিজভী

