নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাজারে মানুষের ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার
করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীকাল বুধবার থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এক সপ্তাহের জন্য ‘লকডাউন’ শুরু হবে এ খবর জানানোর পরই পৌর শহরের বাজারে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাজারে ভিড় করছে। কেউ কেউ একসঙ্গে বাড়তি পরিমাণ পণ্য কিনে ঘরে ফিরছেন।
সোমবার সরেজমিনে পশ্চিম বাজার, মধ্যবাজার, পূর্ব বাজার, জগন্নাথবাড়ী, জেল রোড, আলফাত স্কয়ার, কিচেন মার্কেটসহ বিভিন্ন পাইকারী ও খুচরা দোকানে মানুষের বাড়তি ভিড় দেখা যায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত এমন ভিড় থাকে না। লকডাউনের খবর শুনেই ক্রেতারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বাজারে আসছেন। তবে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কেউ কেউ বলছেন, একদিকে লকডাউন অন্যদিকে সামনে রোজা। তাই অনেকেই মাসের ও রোজার বাজার একসঙ্গে করছেন। তাই ক্রেতা কিছুটা বেশি।
পূর্ববাজারে ক্রেতা তামান্না বেগম বলেন, বুধবার থেকে কঠোর লকডাউনের খবর শুনে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বাজারে এসেছি। করোনার মধ্যে আমি বাধ্য হয়েছি মানুষের ভিড়ে এসে বাজার করতে। কারণ লকডাউন দিলে তো সব দোকানপাঠ বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রমজান মাস শুরু হচ্ছে। তবে বাজারে এসে মনে হয়েছে করোনার ভয় মানুষের নেই বললেই চলে।
মধ্যবাজারে ক্রেতা কফিল উদ্দীন বলেন, করোনা ভাইরাস বাড়ায় বুধবার থেকে লকডাউনের ঘোষণা করা হয়েছৈ। অন্যদিকে রমজান মাসও শুরু হচ্ছে। তাই একসঙ্গে বাড়তি নিত্য দিনের পণ্য কিনছি।
জেল রোডে ক্রেতা শংকর রায় বলেন, মানুষের মুখে মুখে উড়ছে এবারের লকডাউন কঠোর ভাবে পালন করা হবে। তাই একটু বেশি করে বাজার করে নিচ্ছি। করোনার মধ্যেও বাজারে মানুষ অনেক বেশী তারপরও বাজারে আসতে হলো।
জগন্নাথবাড়ী সামনে ভুষিমাল দোকানী আরমান হোসেন বলেন, বাজারে অন্যদিনের তুলনায় বেশী মানুষ জিনিসপত্র কেনার জন্য এসেছেন। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে জিনিসপত্র বিক্রি করছি, কিন্তু ক্রেতাদের অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানেন না। এসময় তিনি বলেন, পেঁয়াজ, রসুন, মুসুরি ডাল সহ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ৪ থেকে ৫ টাকা করে বেড়েছে।
পশিশ্চমবাজারের বিক্রেতা হান্নান মিয়া বলেন, সাধারণত ঈদ বা কোন ধরণের ধর্মীয় উৎসব ছাড়া এরকম ভরদুপুরে এমন ভিড় দেখি নাই। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় লকডাউনের ঘোষণা আসছে সরকার থেকে। কিন্তু মানুষের ভিড় দেখে করোনা আছে বলে মনে হয়না। এভাবে মানুষ ঘেঁষাঘেঁষি করলে করোনা সংক্রমণ আরো বাড়বে। মানুষের ভিড় দেখে মনে হচ্ছে পারলে বাজারটাই যেন কিনে নিয়ে যাবে।