নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবার শংকা

স্টাফ রিপোর্টার
জেলায় ভারী বর্ষণ ও সীমান্ত নদী দিয়ে পাহাড়ি ঢল নামায় সবকয়টি নদীর পানি বাড়ছে। এই পানি জেলার ছোট বড় মিলিয়ে ৯৫টি হাওরে প্রবেশ করছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হাওরগুলো পানিতে পরিপূর্ণ হতে আরও ৫- ৬ দিন লাগবে, তবে বন্যার আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, নলজুর ২২১, পাটনাই ২৭৭, সুরমা নদীর ছাতক পয়েন্টে ১৭, সুনামগঞ্জ পয়েন্টে ১১৩, দিরাই পয়েন্টে ১৪৪ ও যাদুকাটা নদীতে ২০৫ সেন্টিমিটার বিপদসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘন্টায় তাহিরপুরের লাউড়েরগর পয়েন্টে ৪৮, ছাতকে ৮৫, সুনামগঞ্জে ৭৫ ও দিরাই উপজেলায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ৭ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত সুনামগঞ্জ ১ হাজার ৯৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এদিকে ভারি বৃষ্টিপাত ও নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যার আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে এ বছর জেলার হাওরগুলো পানিশূন্য থাকায় বন্যা হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কম। গত বছরের অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নিয়ে এ বছর বন্যা মোকাবিলায় অগ্রিম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে মজুদ রাখা হয়েছে শুকনা খাবার, নগদ টাকা। বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে সকল দায়িত্ব। প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে নৌকা ও স্বেচ্ছাসেবক।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বললেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানি হাওরে ঢুকছে। জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে ৯৫ টি হাওর রয়েছে। এই হাওরগুলোতে পানিতে ভরপুর হতে আরও ৫ থেকে ৬ দিন সময় লাগবে।
জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বললেন, শতাব্দির ভয়াবহ বন্যায় গত বছর সুনামগঞ্জে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে এ বছর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করে অনেক আগেই আমরা অগ্রিম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। কে কোন দায়িত্বে থাকবে তা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ৫ লাখ নগদ টাকা, ৬ মে.টন চাল ও ৪৯০ বান ঢেউটিন রাখা হয়েছে। একশ নৌকার তালিকা করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে তাদের কাজে লাগানো হবে। জেলা প্রশাসন, রেড ক্রিসেন্ট ও পৌরসভার ছয়শ’ প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও রবি-সোমবারে শুকনো খাবারের জন্য বরাদ্দ আসবে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরকম বৃষ্টিপাত হলে তাহিরপুর, বিশ^ম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার কিছু নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।