নিরুত্তাপ নির্বাচন ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা

বিন্দু তালুকদার
টানা বৃষ্টিপাতে বাঁধ ভেঙে বিভিন্ন হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। কোন কোন হাওরের ফসল শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাল বৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ফসলের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁচা ঘর-বাড়ি।
সব মিলিয়ে কৃষকদের চলছে চরম দুর্ভোগ। এর মাঝে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। তাই এবারের নির্বাচন উৎসবমুখর না হয়ে নিরুত্তাপ হবে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ ভোটাররা।
এছাড়া এই প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীর বাইরে গুটি কয়েক বিদ্রোহি প্রার্থী ছাড়া অন্য নির্বাচনের চেয়ে প্রার্থী অনেক কম। পাশাপাশি আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে নির্বাচন নিরুত্তাপ হওয়ার সম্ভবনা বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
তবে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জানিয়েছেন, নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা আছে। সবাই নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসবেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শিমুলবাঁক ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের ভোটার ধীরেন্দ্র কুমার দাস বলেন,‘ এবারের নির্বাচন দলীয়ভাবে হচ্ছে। তাই অন্য বছরের চেয়ে প্রার্থী কম। এছাড়া এবারের নির্বাচনের সময় মানুষ বোরা ধান নিয়ে সমস্যায় আছেন। সব মিলিয়ে অন্য বছরের তুলনায় ভোটারের উপস্থিতি একটু কম হওয়ার সম্ভবনা আছে। তবে স্থানীয় ইউপি  সদস্যরা নিজের ভোটারদের ভোট দান নিশ্চিত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। ’
সদর উপজেলা সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের ভোটার নাদির শাহ বলেন,‘বোরো ধান ও ফসল নিয়ে মানুষ ব্যস্ত আছে ঠিক। তবে সাধারণ ভোটাররা বেশ আগ্রহ নিয়ে ভোট প্রদান করতে এলাকায় ফিরে আসছেন। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি ভাল হতে পারে।’
দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভোটার রফিক মিয়া বলেন,‘এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী কম, তাই ভোটারদের উৎসাহ-উদ্দীপনা একটু কম। নির্বাচন পড়ে গেছে ধান কাটার সময় বৈশাখ মাসে। এছাড়াও এইবার শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে হাওরের ধান নষ্ট করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সাড়া-শব্দ কম। ’
মান্নারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী বরুন চন্দ্র দাস বলেন,‘এই প্রথম দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই সব শ্রেণি পেশার ভোটারদের মধ্যে অন্যরকম উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আমার পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা দিনরাত কাজ করেছেন। ভোটাররাও দলীয়ভাবে নির্বাচনকে মেনে নিয়েছেন এবং ভোটকেন্দ্রে আসবেন বলে জানিয়েছেন।’
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফুল মিয়া বলেন,‘ভোটারদের শতভাগ উপস্থিতি না হলেও অন্তত ৮০ ভাগ ভোটার কেন্দ্রে আসবেন। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে ভোট নিয়ে আগ্রহ আছে।’
সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউপির আওয়ামী লীগের বিদ্রোহি প্রার্থী আব্দুল করিম বলেন,‘ ভোটারদের মধ্যে বেশ সাড়া আছে। তবে অনেক মানুষ এলাকার আইরে আছে ধান কাটায়। অর্ধেক মানুষ ধান কাটা থেকে এলাকায় ফিরে এসেছেন ভোট দিতে, আবার অনেকেই আসেননি। কিছু অংশ ভোটার এলাকার বাইরে সিলেট ও ঢাকায় আছেন। তাই অন্য বছরের ছেয়ে ভোটারদের উপস্থিতি একটু কম হবেই।’