নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধি
সাচনা-বেহেলী-তাহিরপুর পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন দেখতে চান এলাকাবাসী। এলাকাবাসী বলেছেন, ঐ সড়কের একটি কালভার্ট ভেঙে লক্ষাধিক মানুষকে জনদুর্ভোগে ফেলা হয়েছে। তিন কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই সড়কটির কাজ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও স্থানীয়রা মনে করছেন,‘ঐ সময়ের মধ্যে কাজ ধরতেই পারবে না।’ অবশ্য এই সড়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত (আরটিআইপি’র) সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেছেন, ‘কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে না করলেও ২০১৮’এর এপ্রিলের মধ্যে করতেই হবে, না হয় বিশ্বব্যাংকের বরাদ্দের টাকা ফেরৎ চলে যাবে।’
জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের একাংশ, বেহেলী ইউনিয়ন এবং তাহিরপুর উপজেলাকে ভাটি অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাজার সাচনাবাজারের সঙ্গে এবং জামালগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার সড়ক এটি। এই সড়কের ৪ কিলোমিটার ডুবন্ত সড়ক এবং ৩ কিলোমিটার উঁচু সড়ক। এই ৭ কিলোমিটার-ই এখন ভাঙাচোরা। সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রশস্তকরণের জন্য এলজিইডির আরটিআইপি প্রকল্প থেকে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। দরপত্র আহ্বান শেষে গত ৭ মার্চ সড়কের কাজের কার্যাদেশ প্রদান করা হয় এবং ২২ মার্চ ঠিকাদার জয়েন্টভেঞ্চারে সজিব রঞ্জন দাস, পূজা এন্টারপ্রাইজ এবং সাদেক আলী এন্ড সন্সের সঙ্গে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর হয়।
এরপর ২৩ মার্চ থেকেই এই সড়কের সাচনাবাজারের পাশের সাচনা গ্রামের     
রবীন্দ্র দাসের বাড়ির কাছের ইটের তৈরি পুরনো কালভার্ট ভেঙে জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অথচ সড়কের আর কোন কাজই করা হয়নি।
সাচনা গ্রামের রাজনীতিক ও সমাজকর্মী সঞ্জু ঘোষ চৌধুরী বলেন,‘কালভার্ট ভাঙার সময়ই আমরা বলেছিলাম, পানি চলে আসবে, এই কাজ শেষ করা যাবে না। এরপরও তারা ভেঙেছে এবং চৈত্র মাসে তাহিরপুর সীমান্তে শাহ্ আরেফিন (র:) ওরস এবং যাদুকাটার পাড়ে বারুণি ¯œান উপলক্ষে লাখ মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। কয়েকদিন পর দুর্গাপূজা, এই এলাকায় ৩-৪ টি পূজা হয়ে থাকে। মানুষের যাতায়াতে আবার ভোগান্তি পোহাতে হবে।’ তিনি জানান, এই সড়কের আর কোথাও কাজ হয়েছে বলে জানা নেই তার। ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ ধরাই যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, এপ্রিলের মধ্যেও সড়কের কাজ শেষ করা যাবে না।’
অবশ্য কাজের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আরটিআইপি’র সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন,‘পানি আসায় এবং এখনো পানি থাকায় উঁচু এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ করতে না পারায় রক্ষণাবেক্ষণের কাজও করা যাচ্ছে না। নিচু এলাকার ডুবন্ত সড়কের রক্ষণাবেক্ষণও করা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় পানি কমলেই কাজ শুরু করতে হবে। এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ না করলে টাকা ফেরৎ যাবে।’