নির্বাচনী জের ধরে দোয়ারায় ৫ জন ইউপি সদস্যকে হুমকির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
জেলা পরিষদ নির্বাচনের জের ধরে জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলা নিয়ে ৯ নং ওয়ার্ডে পাঁচ জন ইউপি সদস্যকে মোবাইল ফোনে খুনের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন বৃহস্পতিবার রাতে থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেছেন। জিডি নং-১১৪৩, তারিখ ২৯/১২/২০১৬ ইং।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৩ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য প্রার্থী কলাউড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম নির্বাচনে পরাজিত হন। এর জের ধরে তাঁর ছেলে তারেক মিয়ার ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টা ৯ মিনিটে ইউপি সদস্য আব্দুল মতিনকে খুনের হুমকি দেয়া হয়। হুমকি দিয়ে তারেক বলেন, আব্দুল মতিন তার বাবাকে (নুরুল ইসলাম) ভোট না দিয়ে সদস্য পদে সেলিম ও চেয়ারম্যান পদে মুকুটকে ভোট দিয়েছেন। পরে আবারো ৫ টা ২৮ মিনিটে অন্য একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর  থেকে তাকে একইভাবে খুনের হুমকি দেয়া হয়। ৫টা ৩৪ মিনিটে একই ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কাদিরকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেয় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি। সন্ধ্যা ৫ টা ৩৬ মিনিটে ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বীর চন্দ্র পূরকায়স্থকে, ৫ টা ৪২ মিনিট ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেনকে ও রাত ৮ টা ২২ মিনিটে ইউপি সদস্য নুরুল ইসলামকে একইভাবে তাদের ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোনে হুমকি দেয়া হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ইউপি সদস্য আব্দুল মতিনকে নূরুল ইসলামের ছেলে পরিচয় দিয়ে হুমকি দেয়া হলেও অন্য ইউপি সদস্যকে অজ্ঞাত পরিচয়ে হুমকি দেয়া হয়।
অভিযুক্ত তারেক মিয়ার সাথে কথা বলতে চাইলে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর বাবা সদস্য প্রার্থী নুরুল ইসলাম শুক্রবার রাতে বলেন,‘ আমার ছেলে কাউকেই খুনের হুমকি দেয়নি। এটা একটি মিথ্যা কথা। আমার ছেলে কাউকে কোন কথা বলেনি।  তবে শুনেছি আমার ভাতিজা শাকিল ইউপি সদ্যসের সাথে একটু কথাবার্তা বলেছে। সেও কাউকে এধরনের হুমকি দেয়নি। আমি ইউপি সদস্যদের সাথে বৃহস্পতিবার রাতেই কথা বলেছি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি এনামুল হক বলেন,‘পাঁচজন ইউপি সদস্য মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়ার ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। ওই সময়ের করা ফোনকল, ভয়েসরেকর্ড, কললিস্ট, মোবাইল ফোনগুলি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লেখা হয়েছে। ওই ইউপি সদস্যদের একটু সাবধানে চলাফেরা করতে অনুরোধ করা হয়েছে। ওই এলাকায় গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা কাজ করছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’