স্টাফ রিপোর্টার
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের পূর্বে নির্বাচনী প্রচার শুরু করা যাবে না। প্রতীক বরাদ্দের পরও পথসভা ও ঘরোয়া সভা ব্যতীত কোনো জনসভা বা শোভাযাত্রা করতে পারবেন না প্রার্থীরা। পথসভা করলেও জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। এছাড়াও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের সময় কোন প্রকার মিছিল কিংবা শো-ডাউন নিষিদ্ধ করা আছে নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায়। এসময় ৫ জনের অধিক সমর্থক নিয়ে যাওয়াও যাবে না। তবে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আচরণ বিধিমালার তোয়াক্কা করছেন না ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা। ট্রাক, বাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে রীতিমতো মিছিল-শোডাউন করে মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন তারা। এতে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে যানজট ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। শুধু তাই নয় প্রার্থীর সমর্থকদের নাচ, গান, ঢোল, বাঁশির শব্দে যানজটের পাশাপশি তৈরি হয় তীব্র শব্দ দূষণ। স্থানীয়রা বিরক্ত হয়েছেন এমন কর্মকাণ্ডে।
উল্লেখ্য, শান্তিগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ নভেম্বর। আটটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন ৩০ জন এবং ইউপি সদস্য পদে প্রার্থী রয়েছেন ৪০০ জনের মত।
সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮ ইউনিয়নের প্রার্থীরা ট্রাক, বাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করে মিছিল সহকারে মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন। অনেকে আবার গলায় মালা পড়ে মিছিল করে মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন। প্রার্থীদের মিছিল ও শোডাউনের কারণে যানজট ভোগান্তিতে পড়তে হয় সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের যাত্রীদের।
স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াদ মোল্লা বলেন, নিবার্চন আসছে। এখন প্রার্থীরা কত স্বপ্ন দেখাবেন ইউনিয়নের মানুষদের, নির্বাচনটা শেষ হয়ে গেলে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
যানজট ভোগান্তিতে পড়া বিপ্লব আহমেদ বলেন, দেশে কি করোনা নির্মূল হয়ে গেল? চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য প্রার্থীরা মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলছেন মিছিল শোডাউন করে।
পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী শামছুল আলম বলেন, গ্রামের সকলের মতামত নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি। আমি যখন মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য বের হলাম তখন গ্রামের সবাই ভালবেসে আমাকে মালা পড়িয়ে দিয়েছে।
শান্তিগঞ্জের উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, অনেক প্রার্থী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে মিছিল সহকারে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এবার ইউনিয়ন পরিষদের নিবার্চনে আমেজটা একটু বেশি। আমরা সকল প্রার্থীদের সর্তক করে দেবো যাতে কেউ আচরণ বিধি লঙ্ঘন না করেন। আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





