নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে খালেদা জিয়ার প্রস্তাব বিবেচনায় নিন

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিৎ বলে আমরা মনে করি। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের জন্য বর্তমান সার্চ কমিটিকেই আরেকটু সুষ্পষ্ট করেছেন। তাঁর প্রস্তাব হলো, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলের প্রতিনিধিবৃন্দ অথবা নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিবৃন্দ সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠনের । সামনের ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ শেষ হবে। সুতরাং এই সময়ে খালেদা জিয়ার প্রস্তাবটি বিবেচনায় নিয়ে যদি সরকার সার্চ কমিটি গঠনের দিকে মনোনিবেশ করেন তাহলে দেশে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা পাবে যা সামনের জাতীয় নির্বাচনকে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে নিঃসন্দেহে। বেগম খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রস্তাবটিকে অন্তসারশূন্য বলে যে মন্তব্য করেছেন সেটিকে আপাতত আমরা রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেই ধরে নিচ্ছি। আমরা মনে করি সরকার গুরুত্ব দিয়েই বিএনপি প্রধানের বক্তব্যটিকে বিবেচনা করবেন।
সংবিধান অনুসারে এখন নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কোন সুযোগ নেই। বেগম জিয়াও এই বিষয়ে নতুন করে কিছু বলেননি। এ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে বিএনপির আগের অবস্থান পরিবর্তন ঘটেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ক্ষমতাসীন সরকারের জন্য এটি স্বস্তিদায়ক। এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো, বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনটিকে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করে তোলা। গ্রহণযোগ্যতার স্বার্থেই একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন দরকার। নির্বাচন কমিশন আইন ও বিধিমালা অনুসারে নির্বাচনকালীন সময়ে কমিশনের হাতে থাকে প্রচুর ক্ষমতা। এই ক্ষমতার অনেকগুলোই ব্যবহার করা হয় না। ফলত নির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেখি আমরা বার বার। সুতরাং এমন একটি কমিশন সকলে দেখতে চান যে কমিশন সকল চাপের উর্দ্ধে উঠে সঠিকভাবে নির্বাচনী বিধিমালা প্রয়োগের মাধ্যমে একটি ভাল নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারবেন। এখানে ব্যক্তির ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ববহ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার যিনি হবেন তাঁকে বিশেষ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, সৎ, বিচক্ষণ, সাহসী ও জাতির প্রতি অঙ্গিকারাবদ্ধ থাকতে হবে। অন্যদিকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রাজনৈতিক দলের কাছে তাঁকে আস্থাভাজনও হতে হবে।
আওয়ামী লীগ প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছুদিন আগে সামনের নির্বাচন নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠার সুযোগ না দেয়ার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীও চাচ্ছেন সামনের জাতীয় নির্বাচনটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্য হোক। সুতরাং এ্ই একটি জায়গায় শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার আকাক্সক্ষার মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে যদি উভয়ের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা পায় তাহলে সামনের নির্বাচনটি হবে দেশের জন্য ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যম-িত। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে যে নৈতিক প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তারও অবসান ঘটবে। বিএনপি দেশের অন্যতম প্রধান একটি রাজনৈতিক দল। বিএনপিকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতি চিন্তা করার সুযোগ নেই। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে অংশগ্রহণ করানো তাই একটি অন্যতম দায়িত্বও বটে। তাই বলে বিএনপি অন্যায় কিছু চাইলে তা মেনে নিতে হবে বিষয়টি এমন নয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিরও এখানে সমান দায়িত্ব রয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এখন জঙ্গিবাদের যে বিশাল থাবা বিস্তৃত হয়েছে তাকে মোকাবিলার জন্য ছোটখাট বিভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থে এখন রাজনৈতিক দলগুলোর এক হওয়া প্রয়োজন। সকলের মাঝে এই শুভবোধ জাগ্রত হোক এই আমাদের কামনা।