শহীদ নূর আহমেদ
জেলা শহরের অলিগলি, বিপণিবিতান, বাসা বাড়িতে রাত পর্যন্ত পত্রিকা বিক্রি করতে দেখা যায় নূর হোসেনকে। রাতের আঁধারে শহরের বুকে নিরবতা নেমে আসলেও হাত খালি না হওয়া পর্যন্ত নূর হোসেনের বুক থেকে পত্রিকার বান্ডিল নামে না। দোকানপাঠ বিপণি বিতান ও পথচারীদের কাছে পত্রিকা বিক্রি করার পর অবশিষ্ট পত্রিকা শহরের বিভিন্ন মহল্লার বাসাবাড়িতে বিলি করে বাড়ি ফিরে সে। মধ্যরাত পর্যন্ত পত্রিকা বিলি করা এই মানুষটির
কর্মনিষ্ঠা, শ্রম, দায়িত্বশীলতায় মুদ্ধ পত্রিকা মালিক, গ্রাহক, শুভানুধ্যায়ীরা। নূর হোসেন নিশিবেলার হকার বলে পরিচিতি লাভ করেছে পৌর শহরে ।
নূর হোসেন পৌরসভার তেঘরিয়ার বাসিন্দা। প্রায় ৬ বছর ধরে পত্রিকা হকার হিসেবে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। বিধবা মা আলেকজান ও ছোট ভাই জমিরের দুই ছেলে নিয়ে তার সংসার। অসুস্থ মায়ের প্রতি ভালবাসা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতায় বিয়ের পিঁড়িতে বসা হয়নি তার। সারাদিন পত্রিকা বিক্রি করার পর যে আয় হয় তা দিয়ে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করে সে। প্রতিদিন সকাল সকাল পত্রিকা সংগ্রহ করে দুপুর পর্যন্ত পত্রিকা বিক্রি করে । বাকি পত্রিকা মধ্য রাত পর্যন্ত বিক্রি করায় দুপুর থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কিছু সময় বিশ্রাম নেয়। ফজরের নামাজ থেকে শুরু করে কোন ওয়াক্তের সালাত ফাঁকি দেয় না সে। প্রায় সময় পৌর শহরের বিভিন্ন মসজিদে নামাজ পড়তে দেখা যায় তাকে। পত্রিকা গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে নূর হোসেন একজন আগাগোড়া সহজ সরল মানুষ। মধ্যরাত পর্যন্ত তার পত্রিকা বিক্রি করাকে কাজের প্রতি তার আন্তরিকতা হিসেবে দেখে থাকেন সকলে।
ভাললাগা থেকেই পত্রিকা বিক্রির পেশায় নিযুক্ত হয়েছেন বলে জানান নূর হোসেন। কিছু ধনী গ্রাহক ও পত্রিকা মালিকদের দুর্ববহার তাকে ব্যাথিত করলেও জ্ঞানের এই বাহন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারায় নিজে আত্মতৃপ্তি লাভ করেন বলে জানান নূর হোসেন। তবে ভবিষ্যতে হাতে টাকা হলে এই পেশা ছেড়ে দিয়ে ছোটখাটো দোকান করার স্বপ্ন রয়েছে তার।
নূর হোসেন বলেন, আমি অনেক দিন ধরে শহরে পত্রিকা বিক্রি করি। পত্রিকা বিক্রি করতে করতে কোন দিন রাত বারোটা একটা হয়ে যায়। আমি ভাল লাগা থেকে পত্রিকা বিক্রি করি। অনেকেই আছে দুর্ব্যবহার করে। যা খারাপ লাগে আমার। পত্রিকা বিক্রির আয় থেকে আমার একটি দোকান করার স্বপ্ন রয়েছে।


