জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে এ্যামোনিয়া গ্যাসে আক্রান্ত মাছ না খাওয়া ও না ধরার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরও দেশীয় প্রজাতির মাছ খেতে এখনো ভয় পাচ্ছেন অধিকাংশ মানুষজন। মাছ বাজারগুলোতেও তীব্র সংকট দেখা গেছে দেশীয় প্রজাতির মাছের।
শনিবার উপজেলা সদরের জগন্নাথপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় প্রজাতির কোনো মাছ নেই বললেই চলে। বাজারে ইলিশ মাছ ও জাটকার পরিমাণ বেশি দেখা গেছে। ফিসারির মাছও রয়েছে বাজারে । উপায় না পেয়ে কেউ কেউ ফিসারির মাছ ক্রয় করছেন। তাও আবার
বেশি দামে। স্থানীয় জাতের মাছের সংকট দেখা দেয়ায় দাম বেড়ে গেছে ফিসারি মাছের।
বিক্রেতারা জানান, গ্রীষ্মের শুরুতে এমনিতেই মাছের সরবরাহ থাকে কম। এর মধ্যে মড়ক শুরু হওয়ায় বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রেতারাও মাছ কেনার প্রতি হারিয়ে ফেলেছেন। হাওর, নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে মাছের সংকট দেখা দিয়েছে।
জগন্নাথপুর বাজারের মাছ বিক্রেতা জয়নাল আবেদীন জানান, মাছে মড়ক দেখা দেয়ার পর থেকে স্থানীয় জাতের কোনো মাছ বিক্রি হচ্ছে না। আমি স্থানীয় প্রজাতির মাছ বিক্রি করতাম। কিন্তু হাওরের মাছ কেউ ক্রয় করে না এখন। তাই সিলেট থেকে ইলিশ মাছ এনে বিক্রি করছি।
পৌরশহরের ইকড়ছই এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, দেশীয় জাতের মাছ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। ভয় করে খেতে যদি কোন ক্ষতি হয়। যাত্রাপাশা এলাকার আরেক বাসিন্দা বকুল গোপ জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরও দেশীয় প্রজাতির মাছ খেয়ে ভয় পাচ্ছি। তাই মাছ খাচ্ছি না।
উপজেলাবাসী জানান, ১ এপ্রিল অকাল বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে উপজেলার বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় পর পানির নীচে থাকা ধানগাছ পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৬ এপ্রিল হাওরের মাছগুলো মরে পানিতে ভেসে উঠে। ব্যাপকহারে উপজেলার বিভিন্ন হাওর, নদী, জলাশয়ে মাছ মরে পঁচে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন এসব মাছ না খাওয়ার জন্য উপজেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করার এক সপ্তাহ পর প্রশাসন মাছ ধরা ও খাওয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়াহিদুল আবরার জানান, জগন্নাথপুরের হাওরের পানিতে এ্যামোনিয়া গ্যাস কমে গেছে। পানিতে অক্সিজেন বেড়েছে। এখন থেকে মাছ খাওয়া ও ধরা যাবে। ইতিমধ্যে আমরা গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। মাছ খাওয়া, ধরা ও বিক্রয় করা যাবে।


