নীতিমালার জটিলতায় ভাতা পাচ্ছে না শহীদ পরিবার

আকরাম উদ্দিন
নীতিমালার জটিলতায় ভাতা পাচ্ছেন না শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ মিয়ার পরিবার। সুনামগঞ্জ সীমান্তের ৪৮ শহীদের মাজারে থাকা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নিজের স্বামীর নাম দেখিয়ে ভাতা বঞ্চনার কথা জানান সুরুজ মিয়ার স্ত্রী নুরুন নেছা। এসময় স্বামীর নানা স্মৃতিচারণ করে কান্নাকাটি করেন তিনি।
নুরুন নেছা (৭০) জানান, তিনি আনসার সদস্য ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ মিয়ার স্ত্রী। বিয়ের দেড় বছর পর বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন তার স্বামী সুরুজ মিয়া। তিনি ছিলেন একজন সাহসী আনসার সদস্যও।
নুরুন নেছা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, যুদ্ধে যাওয়ার সময় বিদায়ের বেলা বলেছিলেন, হাসিমুখে বিদায় দাও, ফিরে না আসলেও তুমি আমার পরিবার ছেড়ে যেও না।
নুরুন নেছা জানান, যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন তার স্বামী। খবর পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ মিয়ার লাশ ডলুরা শহীদ মিনারে ১০ নম্বর সমাধিতে দাফন করা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা গ্রামের বাসিন্দা নুরুন নেছা জানান, সুরুজ মিয়া শহীদ হওয়ার কিছুদিন পর তাঁর বাবার পরিবার ও শ^শুর পরিবার মিলে তাঁকে অবিবাহিত ভাসুর তারা মিয়ার সাথে বিয়ে দেন। তারা মিয়ার সঙ্গে বিয়ের পর দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মা হন তিনি। ছেলে-মেয়েরা কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই স্বামী তারা মিয়াও মারা যান অকালে।
শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর সরকারি ভাতা শ্বশুর মছমত আলী কয়েক বছর উত্তোলন করেছেন।
তাঁর ছেলে ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ মিয়ার ভাতিজা জাকির হোসেন বড় হয়ে ভাতা পাওয়ার জন্য অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ পাত্তা দিচ্ছেন না, বা পরামর্শও দিচ্ছেন না।
শহীদ পরিবার নিয়ে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে তাঁর স্বামীর প্রতিনিধি হিসাবে ছেলে জাকির হোসেনকে সরকারীভাবে চিঠি দেওয়া হয় এই কাগজ দেখিয়ে তিনি বলেন, কয়েক বার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছে তার ছেলে। তার স্বামী সুরুজ মিয়ার নাম ডলুরা শহীদ মিনারে ১০ নম্বরে আছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন বইয়ে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ মিয়ার নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ আছে।
নুরুন নেছা বলেন, আমার ছেলে-মেয়েরা আমাকে সাধ্যমত দেখা শোনা করে। এখন বয়স হয়েছে। শরীরে অনেক রোগে বাসা বেঁধেছে। হাঁটতে পারি না। চলতে পারি না। খাওয়ায় রুচি নেই। অসুস্থ হলে চিকিৎসা করাতে পারি না। আমি চাই অন্যান্য শহীদ পরিবারের মতো আমাকে ভাতা ও সহায়তা প্রদান করলে আমার জীবনের শেষ সময়টুকু একটু শান্তিতে কাটাতে পারবো।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নুরুল মোমেন বলেন, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ মিয়ার স্ত্রী ভাতা পাচ্ছে না। এই বিষয়টি আমাদের জানা আছে। ভাতিজায় ভাতা পাওয়ার আইন পাশ হলেই সে ভাতা পাবে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুচিত্রা রায় বললেন, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ মিয়ার স্ত্রীর একই পরিবারে বিয়ে হলেও জীবিত পিতা-মাতা ও ভাই-বোন কেবল ভাতা পাবার নীতিমালা রয়েছে। ভাতিজা-ভতিজি ভাতা পাবার নীতিমালা এখনো হয় নি।