স্টাফ রিপোর্টার
শাল্লায় হিন্দু ধর্মাবলম্বি অধ্যুষিত গ্রামে হামলা, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামী শহিদুল ইসলাম স্বাধীন মিয়াও জামিন পেয়েছেন। সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার তাকে জামিন প্রদানের আদেশ দেন।
গত ১৯ মার্চ ইউপি সদস্য যুবলীগ কর্মী শহিদুল ইসলাম স্বাধীন মিয়াকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরদিন স্বাধীন মিয়াকে শাল্লা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ আদালতে হাজির করে স্বাধীনের ১০ রিমান্ডের আবেদন করে। ২৩ মার্চ আদালত তার ৫ দিনের রিমা- মঞ্জুর করেন। রিমা-ে পুলিশের কাছে নোয়াগাঁওয়ের হামলায় নিজের যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে সে। হামলার সময় বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে তার ছবি দেখা গেছে। সোমবার আদালতে জামিন চাওয়ার সময় কারাগারেই ছিলেন স্বাধীন মিয়া। শুনানী শেষে তাকে জামিন প্রদানের আদেশ দেন জেলা ও দায়রাজজ ওমা. ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার।
আসামী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন- আবু মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আসপিয়া, সাদিকুর রহমান স্বপন, রবিউল লেইস রোকেস ও আপ্তাব উদ্দিন। বাদী পক্ষে ছিলেন পিপি শামছুন নাহার বেগম শাহানা। পিপি শামছুন নাহার শাহানা বেগম শাহানা স্বাধীন মিয়ার জামিন লাভের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জাতিরজনক শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থকরা গত ১৭ মার্চ হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর করে নোয়াগাঁও গ্রামের ৮৮ বাড়িতে। এসময় গ্রামের ৫ টি মন্দির ভাংচুর করা হয়। নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন নামের এক তরুণের ফেসবুক আইডি থেকে মাওলানা মামনুল হককে কটাক্ষ করে কথিত স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় এই তা-ব চালানো হয়। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর পক্ষে পরদিন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় ৫০ জনের নামোল্লেখ করে ১৫০০ জন আসামী, শাল্লা থানা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর আব্দুল করিম বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় ১৫০০ জন আসামী এবং ঝুমন দাসের মা নিভা রানী দাসের দায়ের করা মামলায় ৭০ জনের নামোল্লেখ করে ১৫০০ জনকে আসামী করা হয়। সকল মামলায় প্রধান আসামী ছিলেন স্বাধীন মিয়া।


