নৌকার কান্ডারি হতে ১২ নেতার আবেদন/ ভোটের লড়াইয়ে আবারও মান্নান ও ডন সমর্থকরা

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা জগন্নাথপুরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গত প্রায় ১৫ বছর ধরেই লড়াই হচ্ছে স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ ডনের সমর্থকদের মধ্যে। সরকারি দলের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই নেতা সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় না এলেও তাঁদের সমর্থকদের আলাদা আলাদা অবস্থানের বিষয়টি ২০০৫ সালের পর থেকেই দেখে আসছেন উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা। আগামী ২৫ মে এই উপজেলার চেয়ারম্যান পদে পুন:নির্বাচন, এই নির্বাচনেও এমনটাই হতে পারে মনে করছেন দলের কর্মী সমর্থকরা।
আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে গেল দুই নভেম্বর চেয়ারম্যান হয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত আকমল হোসেন। নির্বাচিত হবার এক মাস ২৪ দিনের মাথায় মারা যান তিনি। বর্ণাঢ্য রাজনীতিক ছিলেন আকমল হোসেন। দুই বার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও দুই বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
তাঁর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া এই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন ২৫ মে। বুধবার দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির আবেদন শেষ তারিখে ১২ জন দলীয় নেতা নৌকা চেয়ে আবেদন করেছেন। ১৫ মে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হবে।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাবেক সহসভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী হরমুজ আলী, সাবেক সহসভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী হারুনুর রশিদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবুল হাসান, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি কামাল উদ্দিন, মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী সাবিনা সুলতানা, আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টুর রঞ্জন ধর, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হোসেন লালন, যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক জুবায়ের আহমদ ও সাবেক সহসভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিরাজুল হক।
মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় নেতারাও দুই বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হলে ভোটে লড়ার প্রস্তুতিও রয়েছে কারও কারও।
দলীয় প্রতীক না পেয়ে গেল দুটি নির্বাচনে এই উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা। এবার দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহের সুযোগ পাওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন না মুক্তা।
বুধবার বিকেলে মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা এই প্রতিবেদককে বলেছেন, গত দুটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন সংগ্রহের সুযোগ পাই নি। এবার যেহেতু দলের কর্মী হবার সুযোগ পেয়েছি, মনোনয়ন না পেলে দলের সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করবো না।
তবে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হারুনুর রশীদ দলীয় মনোনয়ন না পেলে ভোটে লড়বেন বলে জানিয়েছেন তার কর্মী সমর্থকরা।
আজিজুস সামাদ ডনের সমর্থক হিসাবে পরিচিত হারুনুর রশীদ অবশ্য বলেছেন, আমার পরিবার স্বাধীনতা সংগ্রামে নির্যাতিত। দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম। আমার কর্মী সমর্থকরা চাইছেন এবার উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেই আমি। দলীয় মনোনয়ন চেয়েছি, রাজধানীতেই আছি, আশা করছি দলীয় প্রতীক আমার ভাগ্যেই জুটবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের চার সদস্যের কমিটির সভাপতি মারা যাওয়ায় এখন তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি কাজ করছে। এই কমিটির দুইজনেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় উপজেলা কমিটির পক্ষ থেকে এবার প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে বলা হয় নি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু স্থানীয়ভাবে এমএ মান্নানের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত। তিনি বললেন, গেল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম, আমার নামও কেন্দ্রে গিয়েছিল। আমাদের সভাপতি প্রয়াত আকমল হোসেন মনোনয়ন পান। দলের অনেকে তাঁর বিরোধীতা করেছেন। আমি কখনোই দলের প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেই নি। আমি সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মী। আশাকরছি দল আমাকে বিবেচনা করবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রশীদ ভুইয়া বলেছেন, জগন্নাথপুরের স্থানীয় নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হবার রেওয়াজ আছে। এবারও সেটি হবার সম্ভাবনা বেশি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন যারা চেয়েছেন সকলেই দলের নেতা, তাদেরকে বুঝানোর কিছু নেই। সামনে জাতীয় নির্বাচন। জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় বিভক্তির সুর আছে। এই নির্বাচন ঐক্যবদ্ধভাবে না করতে পারলে, জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে।
জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বুধবারই সম্ভাব্য দুই প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের জেলা সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট।
তিনি বলেছেন, কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম প্রস্তাব আকারে পাঠাতে বলা হয়েছে। আমরা দুটি নাম বুধবার পাঠিয়েছি। সামনে জাতীয় নির্বাচন, এজন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছি আমরা।