নৌ ও যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

স্টাফ রিপোর্টার
আগামী ১১ নভেম্বর সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজারের ১৯ ইউপিসহ দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিন, ভোটের আগে এবং পরের দিন নৌ ও যান চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসি জানায়, নির্বাচন কমিশনের নতুন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ইতোপূর্বে নির্বাচন উপলক্ষে ট্রাক, পিকআপ, লঞ্চ, স্পিড বোট, ইঞ্জিনচালিত যেকোন ধরনের নৌযান চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তবে আগামী ১১ নভেম্বর নির্বাচন উপলক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণের আগের দিন ১০ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১১ নভেম্বর মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ, ইঞ্চিন চালিত সকল ধরনের নৌ-যান এবং স্পিড বোট চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
তবে সকল ধরনের ইঞ্জিন চালিত নৌযানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে শুধু লঞ্চ ও স্পিড বোট চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। বিশেষ করে ইঞ্জিন চালিত ক্ষুদ্র নৌযান বা জনগণ তথা ভোটারদের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত ক্ষুদ্র নৌযান নিষেধাজ্ঞা বহির্ভূত রাখতে হবে।
অন্যদিকে, ১০ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১১ নভেম্বর মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্রাক ও পিক আপ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ৯ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ নভেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটর সাইকেল চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
ইসি জানায়, রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী/তাদের নির্বাচনি এজেন্ট, দেশি/বিদেশি পর্যবেক্ষদের (পরিচয়পত্র থাকতে হবে) ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য।
তাছাড়া, নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত দেশি/বিদেশি সাংবাদিক (পরিচয়পত্র থাকতে হবে), নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শকের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এর বাইরেও জরুরি কাজে যেমন- অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ও জরুরি পণ্য সরবরাহসহ অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এরূপ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
গত ২৬ অক্টোবর মঙ্গলবার ইসি’র বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে বিএনপি অংশ না নিলেও সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারার ১৯ ইউনিয়নের ১৫ টিতেই বিএনপি’র স্থানীয় ১৫ শক্তিশালী নেতা প্রার্থী রয়েছেন। এরমধ্যে ৫ জন রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান। গত মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ছাতকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী সহ ১২ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর আগে ছাতক উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ৫৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সদস্য পদে ৪৯১ প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। এদিকে ছাতক সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯ নং ওয়ার্ডে সাধারন সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল মতলিব। এদিকে দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৫১৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে মোট ৪৯ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্যা পদে ১০৮ জন ও সাধারণ ইউপি সদস্য পদে ৩৬২ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এরমধ্যে ২ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।