বর্তমান বাজারদরের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ন্যায্য মজুরি এবং স’মিল সেক্টরে নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক প্রদান, ৮ ঘন্টা কর্মদিবসসহ শ্রমআইন বাস্তবায়ন, সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরির গেজেট কার্যকরের দাবি জানিয়েছে স’মিল শ্রমিক সংঘ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় দিরাই উপজেলার কাঠবাজার এলাকায় স’মিল শ্রমিক সংঘের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।
স’মিল শ্রমিকনেতা মো. দুলাল মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির সভাপতি বাদল সরকার ও সিলেট জেলা কমিটির সহ-সভাপতি একে আজাদ সরকার এবং স’মিল শ্রমিক সংঘ সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন।
সমাবশে বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ জেলা বারকি শ্রমিক সংঘ রেজিঃ নং চট্টঃ২৩৫৫ এর সভাপতি মো. নাসির মিয়া, সুনামগঞ্জ জেলা ক্ষৌরকার সংঘের নেতা অবনী চন্দ, স’মিল শ্রমিক সংঘ জেলা কমিটির নেতা সিরাজ মিয়া, স’মিল শ্রমিক সংঘ দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা কমিটির আহবায়ক মো. আখলু মিয়া, স’মিল শ্রমিক সংঘ দিরাই উপজেলার শাখার সংগঠক রিপন ভট্টাচার্য, সেলিম আহমেদ ও স্বপন দাস প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, স’মিল শ্রমিকরা সকাল থেকে রাত ৮/৯ টা পর্যন্ত দৈনিক ১০/১২ ঘন্টা কাজ করতে বাধ্য হন। অথচ দেশের প্রচলিত শ্রমআইনের দৈনিক ৮ ঘন্টা কর্মদিবস নির্ধারণ করা হয়েছে। স’মিল সেক্টরে শ্রমিকদের কাজের কোন নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা নাই, অর্জিত ছুটি, চিকিৎসা ছুটি, উৎসব ছুটিসহ শ্রমআইনের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও কার্যকর করা হয় না। এমন কি দেশের সকল এলাকার স’মিল শ্রমিকরা শুক্রবারে সাপ্তাহিক ছুটি পেয়ে থাকলে দিরাই উপজেলার মালিকরা শুক্রবারেও শ্রমিকদের ছুটি প্রদান করেন না। শ্রমআইনে নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও মালিকরা এসবের ধারধারেন না। স’মিল শ্রমিকদের যেমন নেই কাজের পোষাক, মাক্স, চশমা, গ্লাভস, তেমনি প্রতিষ্টানে ক্রেন ও ট্রলি না থাকায় অমানবিক পরিশ্রম করে বিরাট বিরাট গাছ টেনে মেশিনে তুলতে গিয়ে স’মিল শ্রমিকরা প্রায়ই দূর্ঘটনার শিকার হন। কিন্তু মালিকরা আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপুরণ বা উপযুক্ত চিকিৎসা খরচ প্রদান করেন না। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০১৪ সালে স’মিল সেক্টরে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য নি¤œতম মজুরি ঘোষণা করা হলেও এখনও অধিকাংশ স’মিলে নি¤œতম মজুরির গেজেট কার্যকর হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই শ্রমিকদের সংগঠিত হয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে পথে অগ্রসর হয়ে দাবি আদায় করে নিতে হবে।
এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে মো. দুলাল মিয়াকে আহবায়ক এবং রিপন ভট্টাচার্য ও স্বপন দাসকে যুগ্ম আহবায়ক করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট স’মিল শ্রমিক সংঘ দিরাই উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মো. মোস্তফা মিয়া, বিজয় পাল, নীশি মজুমদার, সেলিম আহমেদ, বিমল চন্দ্র দাস, মো. জামাল।
সমাবেশ থেকে আগামী ৮ ডিসেম্বর সিলেটে স’মিল শ্রমিক সংঘ বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি


