পরিকল্পনামন্ত্রীর পৈতৃক ভিটায় হচ্ছে আজিজুননেসা টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট

বিশেষ প্রতিনিধি
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি নিজের পৈতৃক ভিটার ৪১ শতক জমি সরকারের অনুকূলে দান করেছেন। নারীদের কল্যাণে, বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের কল্যাণে এখানে হবে পরিকল্পনা মন্ত্রীর মায়ের নামে ‘আজিজুননেসা টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট’। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে এই জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের নিকট এই দলিল হস্তান্তর করা হয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি জানান, আমার আবেগ অনুভূতির স্মৃতি এটি। আমার পৈত্রিক ভিটা বলতে এটিই। ছোট বেলায় বাবাকে হারিয়েছি। মা এই বাড়িতে থেকেই অনেক কষ্টে আমাকে লালন করেছেন। পড়াশুনা করিয়েছেন। আমার মায়ের স্মৃতি ধরে রাখার জন্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ‘আজিজুননেসা টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট’ নামে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করেছেন। কৈশোরের নানা স্মৃতি বর্ণনা করে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, আমার মনে আছে, হাঁস-মোরগের প্রথম ডিম গ্রামের চাচীরা আমার জন্য এনে মায়ের কাছে তুলে দিতেন। দরিদ্র পরিবারে বড় হয়েছি। মায়ের কষ্ট আমার আবেগের স্মৃতি। নিজের বাড়ি ছাড়া যেমন বেদনার, গ্রামীণ মা-বোনদের কিছু করা এর চেয়ে বেশি আনন্দের।
তিনি জানান, অসহায়, দুস্থ, বিধবা, দরিদ্র নারীদের কল্যাণে এটি ব্যবহার হবে। গ্রামের অসহায় নারীরা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যাতে থাকতে পারে এবং সেখানে ক¤িপউটার, বুটিক, সেলাইসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ নিতে পারেন সেই চিন্তা থেকে জমি দান করেছেন তিনি।
তিনি জানান, তাকে জানানো হয়েছে মহিলাদেরকে কম্পিউটারের উপর ট্রেনিং দেওয়া, হেন্ডিক্রাপ্টস এর উপর ট্রেনিং, সুটকি তৈরি, পোল্ট্রি ফার্ম, কৃষি, হাঁস-মুরগি, খাসি, গরু ও মৎস্য পালন ও নকশি কাঁথা তৈরি’র উপর ট্রেনিং দেবার বিষয়টিও চিন্তা করা হচ্ছে। মূলত এখানে এসে মহিলারা যা প্রশিক্ষণ নিতে চাইবেন, সেটির উপরই গুরুত্ব বেশি দেওয়া হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আর্থ সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) আবুল কালাম আজাদ সম্প্রতি সরেজমিনে এই বাড়ি পরিদর্শনকালে বলেছিলেন, প্রাথমিকভাবে চিন্তা করা হচ্ছে এখানে একটি ট্রেনিং সেন্টার হবে, সেই সাথে যেসব মহিলা এখানে ট্রেনিং নিতে আসবেন তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। যাতে এখানে থেকে তারা ট্রেনিং নিতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে যারা শিশু বাচ্চা নিয়ে ট্রেনিং নিতে আসবেন, তাদের বাচ্চাদের নার্সিংয়ের ব্যবস্থাও এখানে থাকবে। এখানে হোমলি পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। মহিলারা আনন্দঘন পরিবেশে ট্রেনিং নিতে পারবেন।
সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জমির দলিল গ্রহণ করে বলেন, একটি মহৎ কাজের স্বাক্ষি হতে পেরে আমি নিজেও গর্বিত। আমি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের পক্ষে এটি গ্রহণ করেছি।
প্রসঙ্গত. ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ২০১০ সালের ১২ মার্চ ৮৫ বছর বয়সে মারা যান মা আজিজুন নেছা। আর্থিক দৈনতায় বেড়ে ওঠা তাঁর। পৈতৃক ভিটায় মায়ের নামে একটি কারিগরি বা সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের স্বপ্ন কয়েক বছর ধরেই মনে ধারণ করে আসছিলেন তিনি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া গ্রামে পরিকল্পনামন্ত্রীর পৈতৃক ৪১ শতক জমির বর্তমান বাজার মূল্য দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
দুই বছর আগে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহসড়কের পাশে একটি টিনের ঘর করেছেন মন্ত্রী। সুনামগঞ্জে আসলে এখন সেখানেই ওঠেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের নিকট দলিল হস্তান্তরের সময় পরিকল্পনা মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী হাসনাত হোসাইন, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুজন, শফিক মোহাম্মদ জাভেদ, কামরুল ইসলাম শিপন, মঈনুল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।