পরিবহণ খরচের টাকা হিসাবরক্ষকের পেটে

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কয়েক বছর ধরে বিনামূল্যে বই বিতরণ কার্যক্রমের পরিবহণ খরচ সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে পরিবহণ খরচ বহন করতে হচ্ছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক জ্যোতিষ রঞ্জন তালুকদার সেই টাকা উত্তোলন করে নিজেই ভক্ষণ করেছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রধান শিক্ষক। তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সাথে দাপ্তরিক সম্পর্ক বিনষ্টের ভয়ে এ ব্যাপারে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান মুখ খুলতেও ভয় পান। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তাহের মোহাম্মদ কামরুল হাসানের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে হিসাব রক্ষক কৌশলে কয়েক বছরের পরিবহণ খরচের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পরিপত্র অনুযায়ী উপজেলা সদর থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত বই পৌঁছানোর জন্য পরিবহণ ব্যয় বাবদ বইপ্রতি ২৫ পয়সা করে দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের তিনটি স্কুল এন্ড কলেজ, একটি নি¤œ মাধ্যমিক, পনেরটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি আলিম ও তিনটি দাখিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তিন থেকে চার বছর ধরে পরিবহণ বাবদ কোনো টাকা পাচ্ছে না। বিনামূল্যে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর পরিপত্রের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে নামে মাত্র কিছু টাকা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে টানা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পরিবহণ খরচ দেওয়া হয়নি। মাস দুয়েক আগে উপজেলা পর্যায়ে সিআরবিএস প্লাস নামক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিষয়টি সামনে আসে। তখন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক জ্যোতিষ রঞ্জন তালুকদার সেই টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন এবং দ্রুত সেই ফেরত দিবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্ত সেই টাকা পরিশোধ করেননি জ্যোতিষ রঞ্জন তালুকদার।
বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি ২০১৮ সাল থেকে বইয়ের পরিবহন বাবদ কোনো টাকা পাইনি।’
জয়শ্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ ফরিদ আহমেদ জানান, জ্যোতিষ রঞ্জন তালুকদার পরিবহনের টাকা উত্তোলন করেছেন এবং টাকা দিয়ে দিবেন বলেছিলেন।’
মধ্যনগর বিপি হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিজন কুমার তালুকদার বলেন, ‘প্রথম দুয়েক বছর গড়ে কিছু টাকা পেয়েছি। কিন্তু পরে আর পরিবহণ খরচ পাইনি।’
চার বছর নয় বরং দুই বছর ধরে পরিবহন খরচ পরিশোধ করা হয়না স্বীকার করে অভিযুক্ত জ্যোতিষ রঞ্জন তালুকদার বলেন, ‘অনেকেই অনেক কথা বানিয়ে বলতে পারে। করোনার কারণে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ ছিল। এখনতো ইলেকশনের ঝামেলা আর বই দেওয়া হচ্ছে তাই বিভিন্ন ঝামেলায় চাপের মধ্যে মধ্যে আছি।’- বলেই তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তাহের মোহাম্মদ কামরুল হাসান কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় বক্তব্য জানা যায়নি।
সুনামগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এ টাকা পরিশোধ করা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার। ধর্মপাশা ও শাল্লার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিজেই বিপদে আছি। তাদের জন্য গতরাতে কান্না করেছি। জ্যোতিষ রঞ্জন তালুকদারকে বলবো টাকাটা দিয়ে দেওয়ার জন্য।’