শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের তিন ওয়ার্ডে কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের ইনাতনগর, চন্দ্রপুর, নবীনগর, রায়পুর, ইসলামপুর, কাদিপুর, শরীয়তপুর, রহমতপুর গ্রামগুলোতে এখনও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার ছোঁয়া লাগেনি। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদ অনুসারে জানা যায়, শিক্ষাবঞ্চিত গ্রামগুলোর একটি, কাদিপুরেÑ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল ৫ বছর আগে। এ উদ্দেশ্যে জনৈক শিক্ষানুরাগী কমর উদ্দিন ২৮ শতক জমিও দান করেছিলেন। গ্রামবাসী এই ২৮ শতকের বাইরে আরও ৫ শতক জায়গা কিনে রেখেছেন। সব মিলিয়ে ৩১ শতক জায়গার উপর একটি চমৎকার প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা যায়। কিন্তু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। এজন্য বিদ্যালয়হীন এসব গ্রামের মানুষ অশেষ মনোকষ্টে রয়েছেন। বর্ণিত গ্রামগুলোতে কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিশু শিক্ষার উপর। এসব গ্রামের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু বয়স হলেও কোন বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে না। যারা দূরবর্তী বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে তারাও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির আগেই শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়ছে। সরকার যেখানে প্রতিটি শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করেছে তখন এসব গ্রামের শিশুরা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার অভাবে শিক্ষা জীবনে ঢুকতেই পারছে না, ঢুকলেও শেষ করতে পারছে না। এ ধরনের অবস্থা কাম্য নয়। জেলার শিক্ষা ক্ষেত্রে হতাশাজনক পরিসংখ্যানের যে লজ্জায় আমরা প্রতিনিয়ত পুড়ি সেজন্য কোন কোন গ্রামে বিদ্যালয় না থাকাকে অন্যতম কারণ হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
সরকারি নিয়ম অনুসারে ২ কিলোমিটারের মধ্যে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যালয় গমন উপযোগী ১ শ’ ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকলে নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা যায়। বর্ণিত গ্রামগুলোর কাছাকাছি কোন বিদ্যালয় নেই। এসব গ্রামের কাছাকাছি অবস্থিত বিদ্যালয় হলো পাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ স্কুলে আসতে হলে শিশুদের পাগলা বাজারের যানজটযুক্ত ও ভিড়ে পরিপূর্ণ সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাগলা বাজার অংশ পেরিয়ে আসতে হয়। এরকম একটি সড়ক শিশুদের জন্য অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ণিত গ্রামসমূহে শিশু শিক্ষার্থীর সংখ্যা হাজারের উপরে। সরকারি নিয়ম অনুসারে অনায়াসে এসব গ্রামের সুবিধাজনক স্থানে বা কাদিপুর গ্রামের নির্ধারিত স্থানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা সম্ভব। শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান কাদিপুর গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন। যেসব গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই সেসব গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সরকারের ‘বিদ্যালয়হীন গ্রামে ১০০০ বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প’ নামের একটি কর্মসূচী চলমান রয়েছে। আমরা চাই ওই প্রকল্পের আওতায় অবিলম্বে কাদিপুরের প্রস্তাবিত প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপনের প্রক্রিয়া অবিলম্বে সম্পন্ন করা হোক।
জেলার মধ্যে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সার্বিক উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়নের গতি অনেক বেশি। এই উপজেলায় যেমন মেডিক্যাল কলেজ, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, নারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হচ্ছে তেমনি আরও বহু ছোট বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এরকম একটি উপজেলার কয়েকটি গ্রামের শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষা বঞ্চিত থাকবে এমন চিন্তার বাস্তবতা এখন নেই। আমাদের বিশ^াস বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তারা একটু চেষ্টা করলেই কাদিপুর গ্রামে তাদের স্বপ্নের প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনে সফল হবেন। শিশুরা জাতির ববিষ্যৎ। তাদের উপযুক্তভাবে গড়ে তোলার প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রকে উদ্বুদ্ধ করার দায়িত্ব নাগরিক সমাজের। তাই বিদ্যালয়হীন গ্রামগুলোর মানুষকে একাট্টা হয়ে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দিকে ধাবিত হতে হবে। সকলে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে তা অর্জিত হতে বাধ্য।

