পাঁচপূরণের পথে…

পঙ্কজ কান্তি দে
চার বছর আগে ‘আঁধারচেরা আলোর ঝলক’এর মতোই দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর যাত্রা শুরু করেছিল। সম্মানিত পাঠকের হাতে পত্রিকা পৌঁছে দেওয়ার আগে ৩ মাস অফিস কপি বের করে নিজেদের কিছুটা প্রস্তুত করে ২০১২ সালের ৩০ জুলাই পাঠকের হাতে তুলে দেই আমরা। সুনামগঞ্জের মতো একটি ছোট্ট শহরে গেল চার বছর নিয়মিত একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করা যে কত কঠিন কাজ, তা প্রতি মূহূর্তে টের পেয়েছি আমরা। দক্ষ সংবাদকর্মীর সংকট ও বিজ্ঞাপনের বাজার নেই বললেই চলে। কেবল সাংবাদিকের মালিকানায় বা চেষ্টায় পত্রিকা বের করে অব্যাহত প্রকাশনা যে কত কষ্টসাধ্য ব্যাপার, তা মর্মে মর্মে টের পেয়েছি। তবুও বলবো আমরা জয় করেছি। আমরা এখন পাঁচপূরণের পথে। এ জন্য যাঁরা সুনামগঞ্জে বা দেশে কিংবা প্রবাসে থেকে সুনামগঞ্জের খবরে চোখ বুলিয়ে কখনোবা আনন্দিত হন, কখনোবা উচ্চকণ্ঠ হতে না দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা।
চলছে আগস্ট মাস। বিভ্রান্ত কিছু কাপুরুষ জাতিকে কলংকিত করেছিল এই মাসেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে পিছিয়ে দিয়েছিল দেশ ও জাতিকে। এই মাসে আছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের মহাপ্রয়াণের ক্ষণ। এ জন্য প্রতি বছরই আমরা যেদিন থেকে নিয়মিত পাঠকের হাতে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর তুলে দিয়েছিলাম, সেই দিনটিতেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সংখ্যা বা ছোটখাটো অনুষ্ঠানের আয়োজন করার আকাঙ্খা ছিল। কিন্তু নানা কারণে সেটি হয়ে উঠে না। শেষতক, এই শোকের মাসেই বর্ষপূর্তি সংখ্যা বের করতে হয়। অনাড়ম্ভর ও শোকগম্ভীর পরিবেশে বর্ষপূর্তির আলোচনারও আয়োজন করা হয়। এবারও সেভাবে হবে।
আজকের এই দিনে যে সমস্ত বাণিজ্যিক, সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন প্রদানে সুনামগঞ্জের খবরকে অগ্রাধিকার দেন, যাঁরা সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত জনপদসহ বিভিন্ন স্থানে সুনামগঞ্জের খবর পৌঁছে দেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আগেই বলেছি চার বছরের পথ চলায় কখনো কখনো আমরা পাঠকের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। তবু এটুকু বলবো, আমরা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে চলার চেষ্টা করেছি। সব সময় আমরা মানুষের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছি। অনেক সংবাদ সতীর্থ বা নিকটজনকে ক্ষুব্ধ করেছে, কিন্তু পাঠকের অনুভূতিতে আঘাত করিনি।
এই পথ চলায় দেশে-প্রবাসে সুনামগঞ্জের খবরের অসংখ্য পাঠক-শুভানুধ্যায়ী হয়েছেন। তাঁদের অনেকের কাঙ্খিত সংবাদ আমাদের ছোট কাগজে স্থান দিতে পারিনি, এর কিছু সংবাদ আমরা আমাদের অনলাইন সংস্করণে (িি.িংঁহধসমধহলবৎশযড়নড়ৎ.পড়স)  প্রকাশ করার চেষ্টা করি। কিন্তু তাতে অনেকেরই সন্তুষ্টি আসে না। ছাপা কাগজ এবং অনলাইনÑদুই মাধ্যমেই সংবাদ দেখতে চান পাঠকরা। আমরাও সেটি চাই। কিন্তু বিজ্ঞাপনের বাজার ছোট হওয়ায় পৃষ্ঠা বাড়াতে না পেরে পাঠকের এই চাওয়া পূরণ করতে পারছি না আমরা।
চার বছরের পথ চলায় নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন এমন শুভানুধ্যায়ী রয়েছেন অনেকেই। তবে ছোট্ট এই দৈনিকটিকে নির্ভুলভাবে পাঠকের হাতে তুলে দেবার জন্য প্রতি সন্ধ্যায় আমাদের নীরবে সহযোগিতা করেন আমাদের প্রিয় সুহৃদ। শত ব্যস্ততার মধ্যেও সময় করে এবারের বর্ষপূর্তির প্রচ্ছদ ও একটি লেখা দিয়ে প্রাগ্রসর সহযোগিতার হাত প্রসারিত রেখেছেন আমাদের প্রিয় ধ্রুব দা (ধ্রুব এষ)। তাঁর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। আর ¯েœহাস্পদ সাংবাদিক উজ্জ্বল মেহেদী ও খলিল রহমানের সহযোগিতা পেয়ে আসছি শুরু থেকেই।
এভাবে সবার সহযোগিতায় এবার পাঁচপূরণের পথে সুনামগঞ্জের খবর। প্রিয় পাঠক, আমরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও সাংবাদিকতা দিয়ে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সুনামগঞ্জকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। সুতরাং হাত বাড়ান, সহযোগিতার সংকল্পে।
সম্পাদক : দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর