পাউবোর অনিয়ম দুর্নীতি বিশ্বম্ভরপুরে ২ হাজার একর ফসল পানির নিচে

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনের বাঁধ নির্মাণে পিআইসি ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত না হওয়ায় বোরো ফসল হুমকির মুখে রয়েছে এবং কয়েকটি বাঁধের নীচ দিয়ে চুষে হাওরে পানি প্রবেশ করছে।
এপর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাতে জলবদ্ধতাসহ বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করে ২ হাজার একরেরও বেশী জমির বোরো ধান তলিয়েছে। আরো ব্যাপকহারে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ সঠিকভাবে না হলে যে কোন সময় বাঁধ ভেঙ্গে খরচার হাওরের ফসল            তলিয়ে কৃষকদেরকে সর্বহারা করে দিতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
পাউবোর অধীনে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বৃহৎ খরচার হাওর ও আঙ্গারুলী সনার হাওরসহ মোট ১১টি বাঁধ নির্মাণের জন্য পিআইসির মাধ্যমে বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ঠিকাদারের মাধ্যমে করার জন্য আরো কয়েকটি প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু পাউবো ও পিআইসি ঠিকাদারদের উদাসীনতা, অনিয়ম দুর্নীতির ফলে সময় মত বাঁধের কাজ শুরু করা হয়নি। অসময়ে কাজ শুরু করলেও তা দায়সাড়াভাবে আংশিক মাটি ফেলে সিংহভাগ টাকা আত্মসাতের পায়তারা করছে বলে স্থানীয় কৃষকসহ সকলের অভিযোগ।
খরচার হাওরের হরিমনের ভাঙ্গা বাঁধ, বাকা বাঁধ, রাধানগর গ্রামের কবরস্থান সংলগ্ন, রায়পুর গ্রামের উত্তরসহ কয়েকটি বাঁধে সামান্য মাটির কাজ করায় বাঁধগুলো হুমকির মুখে রয়েছে। কয়েকটি পয়েন্টে বাঁধের নীচ দিয়ে নদী থেকে চুইয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। বাঁশ ও বস্তা দিয়ে জরুরী ভিত্তিতে মাটি ফেলাসহ রক্ষণাবেক্ষণ না করা হলে যে কোন সময় বাঁধ ভেঙ্গে খরচার হাওর তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা, পলাশ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম, আওয়ামী লীগ নেতা দীলিপ কুমার বর্মন, চিত্তরঞ্জন গোস্বামী, ব্যবসায়ী কফিল আহমদ, প্রেসক্লাব সভাপতি স্বপন কুমার বর্মন, সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ, আব্দুল গণি আনছারীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বাঁধগুলো পরিদর্শন করে নি¤œমানের কাজ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এছাড়াও জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম আকস্মিকভাবে খরচার হাওর এলাকা পরিদর্শন করেন।
এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকি প্রতিনিধি উপ-সহকারি প্রকৌশলী (এসও) রফিকুল ইসলামকে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো দ্রুত সংস্কার করার জোর তাগিদ দেওয়া হয়।
বাঁধগুলোর কাজের অনিয়মের কারণে স্থানীয় কৃষকরা একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে পাউবোর প্রতিনিধিকে আটকে রাখেন। পরে উপস্থিত কর্মকর্তাগণ বাঁধের কাজ সম্পন্ন করার শর্তে প্রতিনিধিকে জনতার হাত থেকে মুক্ত করেন।
পাউবোর প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম বলেন,‘ ইতিপূর্বে পিআইসি ও ঠিকাদাররা আমাদের নিদের্শ শুনে নি। যার ফলে এখন পর্যন্ত বাঁধের কাজ শেষ হয়নি।’