পাগনার ঝুঁকিপূর্ণ উজ্জ্বলপুরের ভাঙায় কাজ শুরু হয় নি

বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জের উজ্জ্বলপুর ও জাল্লাবাজের মাঝ অংশের সড়কে বড় ভাঙন তৈরি হয়েছে। গেল বর্ষা মৌসুমে চার দফা বন্যায় জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের এই অংশটুকু ভেঙে যাওয়ায় পাগনা, মিনি পাগনা ও বলহরসহ ৩টি হাওর চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। সুরমা নদীর তীরবর্তী পাগনার হাওরের উত্তর-পূর্ব অংশে সৃষ্ট বৃহৎ এই ভরাট ভরাটকরণসহ দ্রুত ক্লোজার নির্মাণের কোন প্রস্তুতি না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
হাওরপাড়ের জানিয়েছেন, ক্লোজার নির্মাণ আগেভাগে শেষ না করলে সুরমা নদীতে পানি বাড়লে প্রথম ধাক্কায় তলিয়ে যাবে এই ৩ হাওর। তখন হাওরের চারপাশে যে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে তা অর্থহীন হয়ে পড়বে। গত বন্যায় মূল সড়ক ভেঙে পড়ায় ভাঙনকৃত এই জায়গাটি এখন হাওরের তলানির সমান হয়ে গেছে। ভাঙনর একপার থেকে আরেক পারের দূরত্ব হবে হাজার ফুট প্রায়। নদী যখন পানিতে ভরপুর হবে তখন নদীলাগোয়া এই ভাঙা দিয়েই সবার আগে পানি ঢুকবে হাওরে। এতে শুধু পাগনা মিনি পাগনাই নয়, এ উপজেলা ছাড়াও অন্য উপজেলার হাওরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিপজ্জনক এই ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ ঠেকাতে এখন পর্যন্ত কেউ স্থানীয়দের সাথে কথা বলেনি। হাওর রক্ষায় স্থানীয় কৃষকের মতামত নিয়ে উজ্জ্বলপুর-জাল্লাবাজ অংশে বাঁধ নির্মাণ জরুরী বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
উজ্জ্বলপুর গ্রামের আইনুল হক বলেন, এই ভাঙার লাগি সারা হাওরই ঝুঁকিতে থাকবো। গাঙে পানি বাড়লে পাগনাসহ ছোট-বড় সব হাওরেই পানি ঢুকবো। এই হাওরের অন্যখাইন্দা যে বাঁধ দেওয়া হইতাছে এইতা কোন কাজো আইতো না। আগে এই জায়গাটা বান্দা লাগবো। কিন্তু এর লাগি কেউ আগাইয়া আইতাছে না। আমরা চিন্তায় আছি।
উপজেলা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ও পাগনার হাওর পারের কৃষক অঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, পাগনার হাওরের প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমির সুরক্ষার জন্য ৩টি বাঁধ অর্থাৎ ফুলিয়াটানা, বোগলাখালি ও উজ্জ্বলপুরের বাঁধ গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে উজ্জ্বলপুরের বাঁধ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজ শুরু হয় নি। এখানে কাজ দ্রুত শুরু না হলে পাগনার হাওর অরক্ষিত থাকবে।
এ ব্যাপারে ভীমখালী ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া বলেন, উজ্জ্বলপুর-জাল্লাবাজের ভাঙাটি নিয়ে আমরা খুব চিন্তিত। এতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা তুলনামূলকভাবে খুব কম। হাওরকে ঝুঁকিমুক্ত করতে হলে সড়ক লেবেল বাঁধ নির্মাণ করতে হবে এবং এর জন্য বড় বরাদ্দ প্রয়োজন। এ নিয়ে আমরা ইউএনও ও এসও সাহেবের সাথে আলাপ আলোচনা করেছি, তারা আশ্বাস দিয়েছেন। এখন দেখা যাক কি হয়।
ভীমখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও উজ্জ্বলপুর-জাল্লাবাজ ভাঙার পিআইসি সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াকিব বলেন, এই ভাঙাটি শুধু উজ্জ্বলপুর আর জাল্লাবাজের জন্য নয়, এটি সমগ্র হাওরবাসীর জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। এটি একটি বৃহৎ ভাঙা। এ ভাঙ্গা ভরাটে যে অল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি, তারা জানিয়েছেন কিছু করার নেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা কাবিটা স্কিম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, এটা ইষ্টিমেটের বিষয়, মেজারমেন্টের বিষয়। মেজারমেন্ট করে যেটা আসছে, সে বরাদ্দই দেওয়া হয়েছে। সেটা হাইটের বিষয় আছে, হাইট যখন বাড়ানো হবে, ডিজাইন পাশ করা হবে তখন সেটার বরাদ্দ বাড়বে।