তাহিরপুরের পাটলাই নদীতে যথেচ্ছভাবে বড় ট্রলার, ইঞ্জিন নৌকা ও বাল্কহেড চলতে দিলে যে ভয়াবহ নৌজট লাগবে তা জানা ছিল। এই জানা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি কেউ। না বড়ছড়া কয়লা-চুনাপাথর আমদানিকারক গ্রুপ, না নৌযান মালিক কিংবা স্থানীয় প্রশাসন, কেউই পূর্ব সতর্কতা অবলম্বন করেননি। ফল হয়েছে ওই নদীতে এখন ৫ কিলোমিটারের দীর্ঘ নৌজট তৈরি হয়েছে। গত ১৮ দিনে নদীপথে তৈরি হওয়া এই নৌজট এখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি। হাঁসমারা বিল থেকে পাইকরতলা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এই নৌজট। এ পথে আসা নৌযানের অনেকগুলোতেই ছিল স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এরমধ্যে পচনশীল দ্রব্যগুলো ইতোমধ্যে বিনষ্ট হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘ দিন ধরে নৌকাগুলো আটকা থাকায় নৌশ্রমিকদের টাকা পয়সার অভাব দেখা দিয়েছে। তারা এখন খাবারের ব্যবস্থাও করতে পারছেন না। দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বহু ব্যবসায়ী তাদের অর্ডার প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এদিকে বড়ছড়া দিয়ে চুনাপাথর ও কয়লা ব্যবসায় ভাটা দেখা দিয়েছে। পরিবহন বিভ্রাটের ফলে ক্রেতারা নতুন করে অর্ডার করতে ভয় পাচ্ছেন। আটকে থাকা নৌযানের সংখ্যা হাজারের উপর বলে জানা গেছে। সবকিছু মিলিয়ে এই নৌজটের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ অনেক। অথচ শুরু থেকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকলে এরকম নৌজট পরিস্থিতি সহজেই এড়ানো যেত। মূলত পাটলাই নদীতে এখন তীব্র নাব্যতা সংকট তৈরি হয়েছে। এই নদী একসময় বেশ প্রশস্ত ছিল। অনায়াসে বড় বড় নৌকা চলতে পারত। গত কয়েক বছরে পাটলাই নদীর সুলেমানপুর অংশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা পলিভরাট হয়ে সংকুচিত হয়ে গেছে। এই সরু অংশের কারণে বড়ছড়া থেকে বড় নৌকা এই জায়গায় এসে আটকে যায়। নৌযান যারা ব্যবহার করেন তারা এই সমস্যার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি। দূরদর্শিতা থাকলে এটি করা উচিৎ ছিল। স্থানীয় প্রশাসন এখন নানামুখী চেষ্টা চালাচ্ছেন জট কমানোর জন্য কিন্তু ন্যেকার সংখ্যাধিক্যের কারণে এটি কঠিন হয়ে উঠেছে। এদিকে মরার উপর গোদফোড়া হয়ে গেছে এই নৌজট ব্যবস্থাপনার বিষয়টি। ব্যবসায়ীরা এই নৌজট নিয়ন্ত্রণ ও নৌকার নিরাপত্তার জন্য কিছু পাহারাদার নিয়োগ দিয়েছেন। পাহারাদাররা দায়িত্ব পেয়ে আরেক দুর্নীতির খাত খোলে বসেছে। তারা টাকার বিনিময়ে পিছনের নৌকাকে আগে নিয়ে আসছে। এতে আগের নৌকার লোকজন বাধা দিলে সংঘর্ষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে পড়ে। কথিত এইসব পাহারাদাররা নাকি অনেক নৌশ্রমিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করেছে। এ কারণে নৌশ্রমিকরা কিছুদিন আগে তাহিরপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন।
পাটলাই নদীর এই নৌজট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা দ্রুত নিতে হবে। নতুন করে যাতে আর কোন নৌকা অন্তত সুলেমানপুরের পরে প্রবেশ না করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে আগে। জটে আটকে থাকা নৌকাগুলোকে যারা যার অবস্থানের ক্রমিক অনুসারে এগোনোর সুযোগ করে দিতে হবে। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে তাহিরপুরের প্রশাসনকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা নিয়ে। সবচাইতে বড় কথা হলো- অর্থনৈতিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ এই নদীপথের উপযুক্ত নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী ভিত্তিক বাণিজ্য সম্ভাবনাকে টিকিয়ে রাখতে পরিবহনের এই জীবন-পথটিকে সচল রাখার কোন বিকল্প নেই। তাই নৌজটের বর্তমান সমস্যা যেমন নিরসন করা দরকার তেমনি এই সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে নদী খননের কাজ শুরু করতে হবে। স্থায়ী সমাধানের জন্য বড়ছড়ার ব্যবসায়ীদের উদ্যোগী ভূমিকায় আসতে হবে। ইতোমধ্যে তারা যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে অনুরূপ ক্ষতি এড়ানোর জন্যই এই ভূমিকার প্রয়োজন। আমরা আশা করি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পাটলাই নদীটি নাব্যতা ফিরে পাবে।
- শাল্লায় ভাইস চেয়ারম্যানের কক্ষে অফিস সহায়কের আত্মহত্যা
- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণে সমঝোতা স্মারক সই

