স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা কমলেও হাওরপাড়ের গ্রামগুলোতে দুর্ভোগ বেড়েছে। গেল প্রায় ১৫ দিনের লাগাতার বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নাভিশ^াস অবস্থা চলছে হাওরের জনপদে। ঘরে ঘণ্টা সমান পানি, ভেজা ধান শুকাতে না পারায় ধানের স্তুপে চারা গজানোসহ নানা ভোগান্তিতে রয়েছেন সুনামগঞ্জ শহরতলিসহ জেলার পাঁচ উপজেলার বাসিন্দরা।
সুনামগঞ্জ শহরের শান্তিবাগের বাসিন্দা ডা. সুজিত রায় বললেন, চারদিন আগে ঘরে পানি ওঠেছিল। সকালে এক দুই ইঞ্চি নামলেও, বিকালে এক ইঞ্চি উঁচু হয় বন্যার পানি, এভাবে থাকলে পানিবাহিত রোগবালাই দেখা দেবে ঘরে ঘরে।
সুনামগঞ্জ শহরতলির ভাদেরটেক গ্রামের বাসিন্দা মোবারক আলী বললেন, গেল ১২ মে সড়ক ভেঙে করচার হাওরের উঁচু এলাকায় পানি ঢুকে ডুবেছিল ধান। পানির নীচ থেকে কেউ কেউ ধান কেটে এনেছিলেন, কিন্তু এই ধান শুকানোর সুযোগ না পাওয়ায় পঁচে নষ্ট হচ্ছে।
ছাতকের ধারণ এলাকার বাসিন্দা গণমাধ্যম কর্মী রাজ উদ্দিন জানালেন, পানি কমতে শুরু হলেও ভোগান্তি কমে নি। অনেক টিউবওয়েল এখনো ভাসে নি। কৈতক হাসপাতাল কমপ্লেক্স থেকে পানি নামলেও টিউবওয়েল এখনো ভাসে নি। জাউয়াবাজারের কোন কোন অংশে পানি হাটঁু থেকে কমে ঘণ্টা হয়েছে। অনেক সড়ক ডুবে আছে, সড়কের উপর দিয়ে যানবাহন চলছে না, আবার নৌকাও যাচ্ছে না, তাতে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আগামী দুই দিন একই অবস্থায় থাকবে। নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা কমে শনিবার বিকাল ৩ টায় বিপদসীমার এক সেন্টির উপর দিয়ে যাচ্ছিল। ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জি—আসামে বৃষ্টি কম হয়েছে। সুনামগঞ্জে হয়েছে ৪৬ মিলিমিটার।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বললেন, আগামীকাল রোববার আবহাওয়া একই ধরণের থাকবে। তবে ২৩, ২৪ ও ২৫ মে বৃষ্টি কমবে। এই তিনদিন উজানেও (মেঘালয়— চেরাপুঞ্জিতে) বৃষ্টি কম হবে।
প্রসঙ্গত. গেল প্রায় ১৫ দিন হয় সুনামগঞ্জে লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। একইসঙ্গে উজানের ঢল নামায় জেলার পাঁচ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি চলছে। এরমধ্যে বেশি খারাপ অবস্থা ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার।
- ভোটার তালিকা হালনাগাদ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে ১৬ নির্দেশনা
- ছাতকে স্বেচ্ছাসেবকলীগের উদ্যোগে মাংস—পোলাও বিতরণ


