প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পানি ব্যবস্থাপনায় সার্বজনীন বৈশ্বিক উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত পানি বণ্টনে যথাযথ নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। বুদাপেস্টে পানি সম্মেলন ২০১৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেছেন, দুষ্প্রাপ্যতা সবসময় পানি সঙ্কটের প্রধান কারণ নয়। বরং এ সমস্যা ন্যায্য বণ্টনের সঙ্গেও সম্পর্কিত। আন্তঃসীমান্ত প্রবাহের বণ্টন এখন একটি জটিল বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সঠিকভাবেই পানির প্রাপ্যতা, বণ্টন ও ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। ২৩০টি নদীবিধৌত বাংলাদেশের ৫৪টি নদীই আন্তঃদেশীয়। বাংলাদেশকে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টনের সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে বিশ্বনেতাদের আহ্বান জানিয়ে যে সাতটি এজেন্ডা তুলে ধরেছেন, সেগুলো অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে।
পানির অপর নাম জীবন। আমাদের জীবনযাত্রার প্রধান অনুষঙ্গ হচ্ছে পানি। বাংলাদেশে কৃষিকাজ, পরিবহন, মত্স্য ও জলজ সম্পদ আহরণ থেকে শুরু করে আমাদের সংস্কৃতি ও ধ্যান-ধারণার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পানি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশ ব্যাপক বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি ঘাটতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা ছোট-বড় নদীগুলোর মধ্যে ৫৪টি রয়েছে আন্তঃসীমান্ত। দু’-চারটি নদী বাদে বাকিগুলোর উৎস দেশ ভারত। ভাটির দেশ হওয়ায় সব নদীতে পানিপ্রবাহ যথাযথ হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত দুটি নদীর পানিপ্রবাহ মনুষ্যসৃষ্ট কারণে ব্যাহত হচ্ছে। এখানে অভিন্ন নদীতে পানির প্রাপ্যতার চেয়ে বণ্টনের সমস্যাই অধিক দৃশ্যমান। সেই সঙ্গে উজান ও ভাটিতে পানি ব্যবস্থাপনায় বৈষম্য রয়েছে। অভিন্ন নদীগুলোর মধ্যে একটি নদীর পানি বণ্টনে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে চুক্তি আছে। অন্য একটি নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বছরের পর বছর আলোচনা হচ্ছে।
আমরা মনে করি, শুধু দুটির পানি বণ্টন নয়, বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত সব নদীর পানি বণ্টন বিষয়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমঝোতা হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে হবে। এ লক্ষ্যে অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপকভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সম্মত পানি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার। ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকেই এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

