স্টাফ রিপোর্টার
সপ্তাহ খানেক সময় ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হলে মঙ্গলবার রাত থেকে ভারি বৃষ্টি পাতে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে সুরমা ও জেলার বিভিন্ন নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের দেয়া তথ্যে মতে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছেন ৮ সে. মি.। বুধবার ভোর ৬ টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ মিলিমিটার।
টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসল তোলা নিয়ে আতংকে রয়েছে জেলার কৃষকেরা। ক্রমাগত বৃষ্টি হলে নদীর পানি অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়ে অকাল বন্যায় বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশংকা কৃষকদের। হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ না হওয়া ও কাজে অনিয়ম দুর্নীতি হওয়ায় হাওরের বাঁধ নিয়ে ঝুঁকি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাহেদুল হক জানিয়েছেন, যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে তাতে এখনই ফসল তলিয়ে যাওয়া ও ক্ষতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।
রঙ্গারচরের আলীম উদ্দিন জানান, কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সুরমার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা খুব আতঙ্কে আছি, যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আবারও খেতের ফসল তলিয়ে যেতে পারে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্ব বীরগাঁও গ্রামের বেলাল হোসেন নামে এক কৃষক বলেন,‘আমি এবার ২৮ জাতের ধান চাষ করেছি। সময় সময়ে সার ও পানি দিয়েছি কিন্তু ধানের কোন উন্নতি দেখছি না। এখনও ভাল করে ধান বের হয় নাই। কাটতে হলে আরো ১৫ -১৬ দিন অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে অতিবৃষ্টিতে অনেক হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। গত মৌসুমে জেলার অন্যতম হাওর খরচার হাওর, দেখা, শনির হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতায় কৃষকের ফসল তলিয়ে গিয়েছিল।
খরচার হাওরের গৌরারং গ্রামের কৃষক রহমান আলী বলেন,‘গতবার জলাবদ্ধতায় আমার ৪ কেয়ার জমি পানিতে ডুবে গেছিল। এবারও যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে ভয় হচ্ছে জমি নিয়ে। কি করার আছে আমাদের। এখন আল্লা ছাড়া আমাদের বাঁচানোর উপায় নেই।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাহেদুল হক বলেন,‘বৃষ্টিতে হাওরের তলায় কিছু পানি জমেছে, তা ক্ষতির পর্যায়ে যায় নি। তবে সপ্তাহখানেক টানা বৃষ্টি হলে হাওরের ফসল ক্ষতির মুখে পড়বে।’ ফসল কাটার ব্যাপারে তিনি বলেন, এখনও ফসল কাটা শুরু হয়নি। আবহাওয়াগত কারণে অন্যান্য সময়ের চেয়ে এবার ফসল কাটার সময় সপ্তাহ খানেক দেরি হতে পারে। এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে আগাম জাতের ধান কাটতে পারবে কৃষকরা।’
- আজ ভোট গ্রহণ, ৫১ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
- জঙ্গীঝুঁকি নিয়ে বিশেষ আইন-শৃংখলা সভা- ‘যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত’


