পাহাড়ী ঢলের ঝুঁকি

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
বিম্ভম্ভরপুরে টানা প্রবল বৃষ্টিপাতে করচার হাওরের নি¤œাঞ্চলের বোর ফসল ‘ডুবরা’র পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বৃষ্টিপাত এভাবে আরো ২-১ দিন চললে বোর ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা রয়েছে। এছাড়াও ফসল রক্ষার বাঁধের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় হাওরের ফসল নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন কৃষকরা।
গত কয়েক দিন যাবৎ প্রবল বৃষ্টিপাতে করচার হাওর সহ উপজেলার বিভিন্ন হাওরের নি¤œাঞ্চলের বোর ধান ডুবরার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এমনকি কিছু কিছু জমির ধান প্রায় তলিয়ে গেছে। এছাড়া গত ২৮ মার্চ করচার হাওরের ঘাগটিয়া রাবার ড্যাম খোলা থাকায় পার্শ্ববর্তী নদী থেকে পানি উপচে হাওরে প্রবেশ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে।
এদিকে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে পাহাড়ী ঢলের পনি এসে ঘাগটিয়া, রক্তি নদীতে পানি বাড়ার কারণে হাওরের ফসল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।  পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফসল রক্ষা বাঁধরগুলোর নির্মাণ ও মেরামত  কাজও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। প্রায় প্রতিটি বাঁধেই দায়সারা ভাবে মাটি ফেলে কোনো রকমে করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকসহ সচেতন মহল মনে করেন বরাদ্দের তুলনায় বাঁধের অর্ধেক কাজও হয়নি।
করচার হাওড় পাড়ের ফুলভরী গ্রামের কৃষক আ. মতিন বলেন, ডুবরার পানিতে নিচের জমির বোর ধান তলিয়ে যাচ্ছে। ধান এখনও কাঁচা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, আবহাওয়া ভালো হলে যদি পাওয়ার পাম্প মেশিন দিয়ে পানি সেচ করা যায় তবে অনেক বোর ধান রক্ষা করা সম্বব হবে।
কৃষক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, হাওরে ফসল রক্ষার বাঁধের কাজে অনেক অনিয়ম হয়েছে। ফসল রক্ষার জন্য বাধ নির্মাণ এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার বর্মন বলেন, কৃষকের ফসল রক্ষার স্বার্থে মেশিন দ্বারা করচার হাওরে পানি সেচ করা জরুরী প্রয়োজন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আমরা আলোচনা করেছি।
করচার হাওর এলাকার ফতেপুর ইউপি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, করচার হাওরের নি¤œাঞ্চলে ডুবরার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ১৩০ হেক্টর  ২৮ জাতের বোর ধান। এর মধ্যে ৯০ হেক্টর জমিতে ধানের শীষ বেরিয়েছে এবং ৪০ হেক্টরে দুধ হয়েছে এমন ধান ডুবরার পানি লেগেছে।