আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন ও রাতে অন্তত ৪ শতাধিক অবৈধ পিকআপ-ট্রলি চলাচল করে থাকে। এই পিকআপ-ট্রলির শব্দে রাতের ঘুম হারাম হয়েছে এলাকার মানুষের। অবৈধ পিকআপ-ট্রলি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষজন।
জানা যায়, ডলুরা এলাকা থেকে পাথর আনা হয় মইনপুর গ্রামের সুরমা নদীরপাড়ে। এইসব পাথর পরিবহনে ব্যবহৃত হয় পিকআপ ও ট্রলি।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ধোপাজান-চলতি নদী থেকে উত্তোলনকৃত পাথর অবৈধ পিকআপ-ট্রলি ভর্তি করে চৌমুহনী, মঙ্গলকাটা সড়ক হয়ে মইনপুর গ্রামের সুরমা নদীরপাড়ে আনা হচ্ছে। রাতের বেলায় এই অবৈধ যান বেপরোয়াভাবে চলাচল করে সড়কে। পিকআপ-ট্রলির শব্দে হাজার হাজার মানুষ ঘুমোতেও পারছে না। শিশু, রোগী ও শিক্ষার্থীরা মারাত্মক সমস্যায় ভুগছেন।
মঙ্গলকাটা গ্রামের শিক্ষার্থী সুজন মিয়া বলেন, অবৈধ যানবাহন চলাচলে রাতের বেলায় মনোযোগ সহকারে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতে পারে না। অবৈধ যান চলাচল বন্ধ করা খুবই জরুরি।
ফেনিবিল গ্রামের বাসিন্দা সোহেল মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ডলুরা ধোপাজান চলতি নদী থেকে উত্তোলনকৃত পাথর বহনকারী অবৈধ পিকআপ-ট্রলির শব্দে এলাকার মানুষ রাতের বেলায় স্বাচ্ছন্দে ঘুমাতে পারছেন না।
জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের সবুজ মিয়া বলেন, অবৈধ পিকআপ-ট্রলি চলাচলের কারণে রাতের বেলায় শব্দে ঘুমানো যায় না।
বেরীগাঁও গ্রামের জব্বার মিয়া বলেন, অবৈধ পিকআপ-ট্রলি চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত সড়কের পাশের বাসিন্দাগণ আতঙ্কে থাকেন। মালবাহী যানবাহন চলাচলের সময় পুরো গ্রাম কেঁপে উঠে। এসব কারণে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
অ্যাড. শামীম আহমদ বলেন, অবৈধ পিকআপ-ট্রলি চলাচলের কারণে এলাকার সুষ্ঠু পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছে। সড়কে চলাচলে যানবাহনের বিকট শব্দে শিশু ও রোগীরা রাতের বেলায় ঘুমোতে পারছে না। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
বেরীগাঁওয়ের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, দিনে ও রাতে যানবাহনের বিকট শব্দে কান জ্বালা-পালা, সড়কে ঝুঁকিতে চলাচল করতে হয়, মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিবেশ আন্দোলন সংগঠনের সভাপতি একেএম শাহ আবু নাসের বলেন, অবৈধ যানবাহন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। ডলুরা এলাকায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করা হয়। এই পাথর দিনে ও রাতে বহন করে মইনপুর গ্রামের নদীরপাড়ে এনে তা বিক্রি করা হয়। যানবাহন চলাচলের শব্দে মানুষের নানা সমস্যা হচ্ছে এবং পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি এজাজুল ইসলাম বললেন, আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, নদীর ওপারে এভাবে অবৈধ পিকআপ-ট্রলি চলাচল করে থাকে, এটি আমার জানা ছিল না। খোঁজ খবর নিয়ে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেব আমরা।


