ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের শান্তিগঞ্জ-ছাতক থানার মিলনস্থল খাড়াই এলাকার একপাশে রাইস মিল তৈরির জন্য প্রধান সড়ক থেকে নিজের জায়গা পর্যন্ত সড়ক সমান উঁচু করে মাটি দিয়ে ভরাট করেছেন জমি। তৈরি করেছেন মিলের উপযুক্ত করে ভিটা। এতো এতো মাটির জোগান দিয়েছেন ট্রাক্টরের মাধ্যমে। ট্রাক্টরে কাটা মাটি সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক হয়ে গিয়েছে তার নিজের জায়গায়। এতে মাটি কাটার ট্রাক থেকে রাস্তায় যে মাটি পড়েছে তাতে ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলার প্রধান প্রবেশ পথ গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের। কাজটি করেছেন জাউয়া বাজার ইউনিয়নের আগিজাল গ্রামের চালকল ব্যবসায়ী মগ্নি মিয়া (৫০)। অবশ্য তার দাবি তিনি অনেক আগেই মাটির কাজ শেষ করেছেন। রাস্তায় পড়ে থাকা এ মাটি তার নয়।
শুক্রবার দিন ও রাতে উপজেলায় অবিরাম বৃষ্টি হলে রাস্তার এসব মাটি কাদায় পরিণত হয়। এতে, জল-মাটি মিশে আঞ্চলিক এ মহাসড়কটিকে ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। দিন থেকে রাত পর্যন্ত রাস্তাটির শুধুমাত্র খাড়াই এলাকায় প্রায় অর্ধশত যানবাহন দুর্ঘটনায় কবলিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দুর্ঘটনায় কবলিত প্রায় সবক’টি যানবাহনই মোটরসাইকেল। দু’একটি সিএনজি (অটোরিকশা)ও আছে। এলাকাবাসী জানান, বিকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত গাড়ি দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। এতে ৭০/৮০ জন আরোহী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রাস্তায় কাদা তৈরি হওয়ার পর দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া যানবাহন উদ্ধার কাজে ছিলেন খাড়াই পশ্চিমপাড়া গ্রামের আলতাব আলীর ছেলে রুজেল আহমদ (১৬), একই গ্রামের পূর্বপাড়ার তালেব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (১৮)। তাদের সাথে ছিলেন মো. উজ্জল, শাওন মিয়া, তুহিন আহমসহ গ্রামের আরো বেশ কয়েকজন যুবক। তারা জানান, খাড়াই নয়সড়ক এলাকায়, ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিমপাড় মিলে রাস্তায় মাটি পড়ে যে কাদা হয়েছে তাতে গাড়ি পিচ্ছিল খেয়ে পড়ে যাচ্ছে। আমরা সকলে মিলে ৫০/৬০টি গাড়ি উদ্ধার করেছি। আহত হয়েছে ৭০/৮০ জন। একজন গুরুতর। কয়েকদিন আগে রাস্তার পাশে মিল তৈরি করার জন্য মাটি কাটিয়েছেন জাউয়া বাজার ইউনিয়নের আগিজাল গ্রামের চালকল ব্যবসায়ী মগ্নি মিয়া। তার মাটিতে রাস্তায় কাদা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে যখন সড়ক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেছিলেন উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের রুবেল আলম। তখনই কয়েকটি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। রুবেল বলেন, আমি তখন সিলেট যাচ্ছিলাম। রাস্তার এমন বেহাল দশা দেখে নেমে পড়ি। দেখি বেশ কয়েকজন যুবক রাস্তায় গাড়িগুলোকে থামিয়ে সতর্ক করে দিচ্ছেন। তাদের এ কর্মকা- আমার বেশ ভালো লাগে। তাই লাইভে এসে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি কামনা করি এবং সচেতন করার চেষ্টা করি।
সচেতনতামূলক কাজের ব্যপারে খাড়াই পশ্চিমপাড়া গ্রামের আলতাব আলীর ছেলে রুজেল আহমদ (১৬), একই গ্রামের পূর্বপাড়ার তালেব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (১৮) বলেন, দিনের বেলা দেখেছি একটা মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করেছে। আমরা তুলে দিয়েছি। সন্ধ্যার পরে একের পর এক হুড়মুড় করে পড়ছে। তাই আমরা সকল গাড়িকে সচেতন করার জন্য কাজ করেছি। আমরা মনে করেছি এটা আমাদের দায়িত্ব। তাই করেছি। বেশির ভাগই আমাদের কথা শুনেননি। তারা এক্সিডেন্ট করেছেন। পরে আমরাই উদ্ধার করেছি। পুলিশ একবার এসেছিলো। পরে আবার চলে গেছে।
খাড়াই গ্রামের নোয়াব আলী ও আলমগীর হোসেন বলেন, কৈতকের আজমান হোসেন এখানে ট্রাক দিয়ে মাটি কাটেন। তারা ব্যবসা করেন। রাস্তার আর মানুষের ক্ষতি হয়, গাড়ির ক্ষতি হয়। শুধু কি আমাদের এখানে? না। জেলার বিভিন্ন জায়গায় এমনটা হচ্ছে। এসব বন্ধ করা দরকার। মগ্নি মিয়া যে মাটি কাটাচ্ছেন তাতে সড়ক ও জনপথের জায়গা ভরাট করেছেন। আমাদের মসজিদের পুকুরের পানি চলাচল ব্যহত হবে। ছোট একটা পাইপ ব্যবহার করেছেন যা পানি চলাচলে যথোপযুক্ত নয়।
চালকল ব্যবসায়ী মগ্নি মিয়া বলেন, এ মাটি আমার নয়। আমি একমাস আগে মাটি কাটিয়েছি। জাউয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় এখান থেকে মাটি যাচ্ছে।
এদিকে, একই কারণে শান্তিগঞ্জ এলাকার টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের সামনে এমন দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর দাবি, যারা রাস্তা ব্যবহার করে মাটি আনা-নেওয়া করেন তারা যেনো কাজ শেষ হলে বৃষ্টি পড়ার আগেই রাস্তা থেকে মাটি সরানোর ব্যবস্থা করেন।
এ ব্যপারে সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা খেয়াল করেছি। সংশ্লিষ্ট থানার সকল কর্মকর্তার সাথে আমি এখনি (শনিবার সন্ধ্যায়) কথা বলছি। যারা মাটি কাটেন তাদেরকে নিষেধ করবো। এমনটা চলতে দেবো না।


