স্টাফ রিপোর্টার
জেলার বৃহৎ দুটি হাওর কালিকুটা ও পাগনার হাওরের পানি নিস্কাশন হচ্ছে না পিয়াইন ও চোলাই নদীর সংযোগস্থলে চর জেগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায়। সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লার পিয়াইন নদী ও হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জের চোলাই নদীর সংযোগস্থলে এমন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিকালে সরেজমিনে পানি না নামার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাউবো’র প্রকৌশলীদল এই চিত্র দেখতে পান। চোলাই নদী ও পিয়াইন নদীর সংযোগস্থলের চর কাটার জন্য পিআইসি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকাল থেকেই ওখানে কাজ শুরু’র নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী।
সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা ও নেত্রকোণার খালিয়াজুরি নিয়ে কালিকুটা হাওর এবং সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, দিরাই ও নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ নিয়ে পাগনার হাওর। এই দুই হাওরে জমির পরিমাণ ৩৪ হাজার হেক্টর। পানি নিষ্কাশনের ধীরগতির কারণে দুই হাওরপাড়ের কয়েক লাখ কৃষক বোরো চাষাবাদ নিয়ে উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।
সোমবার
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভ্ইুয়াসহ পাউবো প্রকৌশলীরা পানি না নামার কারণ অনুসন্ধানের জন্য ভাটির দিকে গেলে আজমিরিগঞ্জের কাছাকাছি পিয়াইন ও চোলাই নদীর সংযোগস্থলে চর পড়ে পানি নিস্কাশন বন্ধ হয়ে আছে দেখতে পান। পিয়াইন নদীর শেষ মাথায় পানির উচ্চতা ৩ মিটার এবং চোলাই নদীর শুরু থেকেই পানির উচ্চতা আড়াই মিটার দেখতে পান।
এই অবস্থায় সোমবার দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন ইকবাল তাৎক্ষনিক পিআইসি গঠনের উদ্যোগ নেন এবং মঙ্গলবার সকাল থেকেই ওখানে কাজ শুরুর নির্দেশ দেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন,‘পলি পড়ে চর ভাসায় পিয়াইন নদী দিয়ে ভাটিতে পানি নামছে না। এ কারণে পিয়াইন নদীতে পানির উচ্চতা ৩ মিটার এবং চোলাই নদীতে আড়াই মিটার। মঙ্গলবার সকাল থেকে এই চর কাটা শুরু হবে। ৩ দিনের মধ্যে চর কাটা শেষ করতে ড্রেজারের প্রয়াজন হলে ড্রেজার, কিংবা শ্রমিক দিয়ে সম্ভব হলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রমিক কাজে লাগানো হবে। এই কাজে বিলম্বের কোন সুযোগ নেই। এরকম প্রতিবন্ধকতা আরো আগে দেখা গেলো না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন,‘পানি বেশি থাকায় চর দেখা যায়নি, এখন পানি কমেছে, চর ভেসে ওঠেছে।’


