বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রের মুক্তিযুদ্ধ সহ ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী পুরাতন সার্কিট হাউস ভবনকে সংরক্ষণের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে একমত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়। এই স্থাপনাকে ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপনা’ হিসাবে সংরক্ষণ এবং এর সংস্কারের জন্য ৫৬ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্থাবনা গ্রহণ করে এটি একনেক’এ অনুমোদনের জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সুনামগঞ্জের সন্তান বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান কবি ও গবেষক ড. মোহাম্মদ সাদিক গত পহেলা সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি সহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের কাছে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি অবিকল সংরক্ষণের জন্য অনুরোধপত্র পাঠিয়ে ছিলেন। তিনি অনুরোধ পত্রে উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে প্রথম পাকিস্তানী সৈন্যরা এসে ঘাটি স্থাপন করে এবং সুনামগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই ভবনের চারপাশ থেকে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই ভবনের চারপাশ থেকে মুক্তিবাহিনী অর্থাৎ ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কৃষক, শ্রমিক সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ভবনে অবস্থানরত পাকিস্তানী সৈন্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেন। প্রথম প্রহরের এই যুদ্ধে ভবন থেকে ছোড়া গুলিতে সুনামগঞ্জের প্রথম শহীদ আবুল হোসেন শাহাদাত বরণ করেন। এই সার্কিট হাউস ভবন দেশবরেণ্য নেতৃবৃন্দ ব্যবহার করেছেন। এই ছোট সার্কিট হাউস ভবনটি আমাদের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের নিদর্শন, যা দুর্লভ একটি স্থাপনা।
অনুরোধ পত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, এই ভবনের বারান্দায় বসে সামনের জুবিলী স্কুল মাঠ, সুরমা নদী, দূরের নীল পাহাড় অর্থাৎ সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রূপ বৈচিত্র উপভোগ করা যায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সুনামগঞ্জ জেলার ছোট অথচ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহৃ, ঐতিহাসিক ও নান্দনিক স্থাপনা অবিকল সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সদয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
এই অনুরাধপত্র একই সঙ্গে মন্ত্রী পরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সুনামগঞ্জের জেলা প্রশসককে পাঠান ড. মোহাম্মদ সাদিক।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ সোমবার সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদককে বলেন, পিএসসি মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়ের চিঠি পেয়ে, তিনিও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়টি গুরুত্ব দেবার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। সোমবার মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রকল্প পরিচালক অতিরিক্ত সচিব মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, তাঁরা প্রাথমিকভাবে এই স্থাপনাটি সংরক্ষণের জন্য ৫৬ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রকল্পটি একনেক এ অনুমোদন হলে, এর বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে।


