স্টাফ রিপোর্টার
বোরো’র ভরা মওসুমে ভোট হওয়ায় কৃষকরা হাওরে ধান রোপনে ব্যস্ত, কৃষাণিরা সকাল থেকে ভিড় করেছেন ভোট কেন্দ্রে। এজন্য কেন্দ্রে কেন্দ্রে নারী ভোটারের ভিড়। সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের উপজেলা দিরাইয়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে রবিবার এমন দৃশ্য দেখা গেছে। চতুর্থ ধাপে সুনামগঞ্জের দিরাই, জগন্নাথপুর ও বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ২১ ইউনিয়নে ছিল ভোট।
একফসলি ধানের জেলা সুনামগঞ্জে পৌষের শুরুতেই বোরো ধানের রোপন শুরু হয়। স্কুল, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সকলেই বীজতলা থেকে চারা তোলা এবং জমিতে ধান রোপনে ব্যস্ত সময় কাটান। এবারও তাই হচ্ছে। সকলে চাষাবাদে ব্যস্ত থাকার সময় ভোট উৎসব শুরু হয়েছে।
দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের ফাতেমানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেলো, নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, পুরুষ বুথে একেবারেই কম ভোটার।
ভোটের লাইনে দাঁড়ানো হাজেরা বেগম বললেন, ‘বেটাইন সব ক্ষেতো, শেষ দিকে আইবা, পতাবেলা (ভোরে) উইট্টা রানছি (রান্না করেছি), পরে তারার লাগি হাওরে খানি পাঠাইয়া ভোট দিতাম আইছি, হকলেই আমার লাখানি আইছইন।’
এই কেন্দ্রের পুরুষ বুথে দাঁড়ানো লাল মিয়া বললেন,‘ক্ষেতে কাম (কাজ) শুরু অইছে, মেম্বার-চেয়ারম্যান অখল ক্ষেতো গিয়া কইয়া আইছন ভোটও আইবার লাগি, ক্ষেতে কাম কিছু কইরা হকলেই আইবা।’
ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের সময় হামিদ মিয়া নামের এক ভোটার অন্য আরেক ভোটারকে জিজ্ঞেস করছিলেন, ‘কিতাবা ফরিদ ভাই, দেরি অইবোনি ভোট দিতে, দেরি অইলেতো যাওনগি লাগবো, ক্ষেতও জালা তইয়া আইছি।’
শুধু ফাতেমানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নয়। দিরাই উপজেলার হাওরের পাড়ে পাড়ে থাকা সকল কেন্দ্রে একই পরিবেশ ছিল। নারীরা সকালে এসে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন। পুরুষরা হাওরে বোরো ধান রোপনের কাজ করে এসে ভোট দিয়েছেন। কেউ কেউ চারা রোপনের কাজ ফেলে রেখে ভোট কেন্দ্রেই আসেন নি।
উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী পরিতোষ রায় (আনারস) বললেন, ভোট কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি, পুরুষরা হাওরে ধান রোপনে ব্যস্ত, আমরা তাদের কেন্দ্রে আনার চেষ্টা করছি।
ফাতেমা নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার মো. শামছুল ইসলাম বললেন, সকাল থেকে কেন্দ্রে নারী ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়েছেন, দুপুরের পরে পুরুষ বুথে ভোটার বেড়েছে। শেষদিকে পুরুষদের লাইন দীর্ঘ হতে পারে।


