স্টাফ রিপোর্টার
পেঁয়াজের ঝাঁজ কিছুটা কমেছে। শুক্রবার সকালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুঁচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। গত বৃহস্পতিবার থেকেই এই দামে পেঁয়াজ মিলছে শহরের দোকানগুলোতে। ঠেলা গাড়ি করে বাসায় বাসায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও এই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে।
পেঁয়াজের দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে নিম্নবিত্ত সহ দিনমজুরদের নাগালের বাইরে চলে যায়। বিপাকে পড়ে যায় অসহায় মানুষেরা। ৩০/৩৫ টকা কেজির এ দ্রব্যটি হঠাৎ করেই দাম বাড়তে বাড়তে চলে যায় ৮০-৯০ টাকায়। এতে করে চরম বেকায়দায় পড়েন দিনমজুর সহ সধারণ মানুষজন।
গত ঈদুল ফিতরের সময় যখন প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০/৩৫ টাকা, ঈদের পরপরই তার দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। ৪০/৪৫ থেকে বাড়তে বাড়তে একসময় তা ৮০-৯০ টাকায় চলে যায়। তবে পেঁয়াজের দাম কমায় এখন দিনমজুর সহ নিম্ন আয়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন।
পৌর শহরের রিকশা চালক মহরম আলী এসেছেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ বাজার সংলগ্ন তালেরতল গ্রাম থেকে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে সহ চার সদস্যের পরিবারের অভিভাবক। বড় মেয়ে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে ডিগ্রিতে পড়ে, ছোট ছেলে প্রাথমিকের দ্বিতীয় শ্রেণীতে। শুক্রবার বৃষ্টির দিন থাকায় সকালে রিকশা নিয়ে বের হতে পারেননি তিনি। বিকেলে দিন আবহাওয়া ভাল দেখে বের হয়েছেন রিকশা নিয়ে।
তিনি বলেন, আমি আজকে সকালে বের হতে পারিনি। বিকেলে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। মাত্র ১৫০ টাকা ইনকাম করেছি। বাসায় পেঁয়াজ নেই। দামটা কমেছে। এইজন্য ভাবছি, কষ্ট করে হলেও এক কেজি পেঁয়াজ কিনব। আরও বাজার সদাই করতে হবে। হিসেব মিলাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম।
মহরম আলী বলেন, গত কয়দিন খুব কষ্ট করে সংসার চালিয়েছি। নিত্য পণ্যের দাম এত বেড়েছে যে, সারা দিনের আয় দিয়েও একটা কিনলে আরেকটা কিনা হয় না। বিশেষ করে পেঁয়াজের দাম নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল। আজকে দামটা কমেছে। ভালোই হয়েছে। এক কেজি পেঁয়াজ কিনেছি।
শহরের নতুন বাজার এলাকার পারভেজ ট্রেডার্স এর মালিক রবিন মিয়া বলেন, এলসির পেঁয়াজ আমদানি হওয়ায় দেশি পেঁয়াজ বিক্রি কমে গেছে। এইজন্য আমরা দেশি পেঁয়াজ আমদানি করছি কম। কারণ হচ্ছে, সুনামগঞ্জে এলসি পেয়াজ বাজারে এলে দেশি পেঁয়াজের চাহিদা কমে যায়।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, পেঁয়াজের দাম কমেছে। আশা করছি দু’চারদিনের মধ্যে ৩০-৩৫ টাকায় নেমে আসবে।


