পৌর কর্মচারীদের দাবির বিষয়ে সরকারের সুবিবেচনা প্রত্যাশিত

সরকারি কোষাগার থেকে বেতন ভাতা পাওয়ার দাবিতে দেশের পৌরসভাগুলোর কর্মকর্তা কর্মচারীরা লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার তারা অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন। দেশের সেবাপ্রদানকারী দপ্তর সমূহের মধ্যে পৌরসভা অগ্রগণ্য একটি প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের নাগরিক সেবার মূল দায়িত্বটি পালন করেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই প্রতিষ্ঠানটি যদি কোন অঞ্চলে কোন কারণে কাজ বন্ধ রাখেন তাহলে নাগরিকদের জীবন অসহনীয় হয়ে উঠবে। বসবাসের অযোগ্য হবে শহর। যদিও তাদের সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। সমালোচনা রয়েছে তাদের আন্তরিকতা ও জনসেবার মনোভাব নিয়েও। এতদসত্বেও পৌরসভা ও এর কর্মচারীদের বাদ দিয়ে আজকের যুগে কোন নাগরিক সভ্যতার কথা চিন্তা করা যায় না। গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কিছু ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত দাবি দাওয়া নিয়ে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও কার্যত এখন পর্যন্ত কোন ফলোদয় ঘটে নি। বিষয়টি দুঃখজনক।
পৌরসভায় যেসব প্রকৌশলী, কর নির্ধারক, কর আদায়কারী, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অফিস স্টাফ কাজ করেন তাদের বেতন ভাতার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে কোন তহবিল বরাদ্দ করা হয় না। তারা বেতন গ্রহণ করেন পৌরসভার নিজস্ব আয় থেকে। পৌরসভার নিজস্ব আয় হলো সরকারি অনুদান ও আদায়কৃত ট্যাক্স। এই আয় দিয়ে কর্মরত কর্মচারীদের শতভাগ সুবিধাসহ বেতন ভাতাদি ও অবসর সুবিধা পরিশোধ করা অধিকাংশ পৌরসভার পক্ষেই সম্ভব হয়ে উঠে না। ফলে এই কর্মচারীরা মাসের বেতন কখন পাবেন, আদৌ পাবেন কিনা তা সবসময়ই থাকে কঠিন অনিশ্চয়তার মাঝে। সরকার সরকারি কর্মচারীদের জন্য বেতনস্কেলের যে সুবিধা দিয়েছেন অনেক পৌরসভা আর্থিক অস্বচ্ছলতার জন্য তা কার্যকর করতে পারছে না। সারা জীবন চাকুরি শেষ করে যে পৌরকর্মচারী অবসরে যাচ্ছেন, তিনি কোন আনুতোষিক বা পেনসন সুবিধা পাবেন কিনা সেটিও অনিশ্চিত। বেতন-ভাতার এই গভীর অনিশ্চয়তা তাদের ব্যক্তি জীবনে নানাভাবে প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে এতে করে তাদের কর্মস্পৃহা ও দক্ষতা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়। পৌর কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব-কর্তব্যের কথা বিবেচনায় এনে তাদের জীবন বাঁচানোর অবলম্বন বেতন-ভাতার সমস্যাটির আশু সমাধান কাম্য।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বশাসনের ক্ষমতা দিয়ে এদের জন্য পৃথক কিছু আয়ের উৎস নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে পরিচালিত হলে এই উৎসগুলো থেকে আহরিত আয় দ্বারা পৌরসভাগুলো ব্যয় সংকুলানে যোগ্য হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্যজনক দেশীয় বাস্তবতায় এখন পর্যন্ত অধিকাংশ পৌরসভা এই আর্থিক স্বয়ম্ভরতা অর্জন করতে পারে নি। সরকার বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারেন না। যারা চাকুরি করেন তারা অন্য কোন উপায় না পেয়েই চাকুরি করেন। মাস শেষে বেতন না পেলে তাদের কষ্টের শেষ থাকে না। চাকুরি করে মাস শেষে বেতন পাওয়া প্রতিটি কর্মচারির মৌলিক অধিকার। এই অধিকার সংরক্ষণে সরকার দ্রুত এগিয়ে আসবেন এই আমাদের প্রত্যাশা। আমাদের সনির্বন্ধ অনুরোধ হলো, পৌরসভার নিজস্ব আয় ও উন্নয়ন ব্যয়সহ প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালনা ব্যয় নির্বাহ করার বিষয়ে সরকার দ্রুত একটি যুক্তিযুক্ত নীতিমালা প্রণয়ন করে পৌর কর্মচারীদের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনুন।