বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রাথমিক স্তরে ধার্যকৃত বাসা-বাড়ি, দোকানপাট ও অন্যান্য স্থাপনার পৌর কর নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ গ্রাহকদের দাবি পৌর কর অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে। যেভাবে করের হার বাড়ানো হয়েছে তা গ্রাহকের পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়। অনেকেই বলছেন এই কর রীতিমত বোঝা হয়ে দাঁিড়য়েছে।
অবশ্য. পৌর কর্তৃপক্ষ শুক্রবার শহরে মাইকিং করে এবং স্থানীয় পত্রিকায় জনস্বার্থে বিজ্ঞাপন দিয়ে বলেছেন,‘পৌরসভা আইন-২০০৯ অনুযায়ী পঞ্চবার্ষিকী কর নির্ধারণের কাজ চলছে। কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে সরকার নির্ধারিত হারে প্রাথমিক কর নির্ধারণ করে ভবন মালিকগণকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। কর রিভিউ কমিটিতে সম্মানিত করদাতাগণের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সহনশীল পর্যায়ে কর নির্ধারণ চূড়ান্ত হবে। পৌরবাসীর উপর বোঝা হয় এমন কোন কর আরোপ পৌর কর্তৃপক্ষ করবে না’।
কর নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন অনেকেই। পৌরসভার মেয়রকে উদ্দেশ্য করে লেখা কয়েকটি ফেইসবুকের কমেন্ট ও পোস্ট তোলে ধরা হলো।
সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুল রহমান মিসবাহ তাঁর ফেইসবুক পেইজে লিখেছেন,‘সুনামগঞ্জ পৌরসভার মানুষের ভোটে টানা দুবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত পৌর মেয়র জনাব আয়ুব বখত জগলুলকে পৌর ট্যাক্স এর বিষয়ে নাগরিকদের সুবিধা ভেবে দেখা দরকার। গত কয়েকদিন থেকে ফেইসবুকে পৌরবাসী অনেকে ট্যাক্স বৃদ্ধির বিষয়ে নেতিবাচক বক্তব্য দিচ্ছেন। যদিও সবাই জানি তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভাকে আর্থিকভাবে একটি শক্তিশালি অবস্থায় নিয়ে এসেছেন তার সময়ের ভেতরে। কিন্তু বর্তমান ট্যাক্স বৃদ্ধির বিষয়টি পৌরবাসী মেনে নিতে পারছেন না। আয়ুব বখত জগলুল একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তার নিজেরও রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অতীত। পৌরবাসীর আস্থা রয়েছে তার উপর। আইন মানুষের জন্য। আইনের জন্য মানুষ নয়। তার মত একজন জনপ্রতিনিধির কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। আশাকরি তিনি মানুষের অন্তরাত্মার দাবির প্রতি অতীতে যেমন অবস্থান নিয়েছেন এ বিষয়েও তাই করবেন।
এমপি পীর মিসবাহর এই পোস্টে মন্তব্য করে আশরাফ হোসেন লিটন নামের একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরীজীবী লিখেছেন,‘সম্মানিত পৌর মেয়র একদিকে যেমন পৌরবাসির অভিভাবক। অন্যদিকে শপথের মাধ্যমে রাষ্ট্রের আইনেরেও রক্ষক। আলোচনার মাধ্যমে আইনানুগ পন্থায় জনগণের জননেতা গণমানুষের দাবি পূরণ করবেন সে প্রত্যাশা রাখি। মাননীয় মেয়র মহোদয়ের সহযোগিতাও কামনা করি। আপনার বক্তব্য প্রতিষ্ঠিত হোক ‘আইন মানুষের জন্য, মানুষ আইনের জন্য নয়।’
সমাজকর্মী দেওয়ান গনিউল সালাদীন নিজের ফেইসবুকে লিখেছেন,‘ জনসাধারনের মতামত না নিয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নতুন পৌরকর পৌরবাসীর জন্য অসহনীয় এবং অন্যায়ভাবে আরোপিত হয়েছে। এই অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেয়া পৌরকর আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না।’
ব্যবসায়ী আহমেদ মজতুবা রাজী নামের একজন নিজের ফেইসবুকে লিখেছেন’ ‘প্রিয় মহোদয়, সুনামগঞ্জ পৌরবাসীর আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রেরিত পৌরকরের বিল কপি পৌর এলাকার মানুষের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সুনামগঞ্জবাসী হিসেবে আপনি নিশ্চিতভাবেই জানেন যে আর্থ-সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় সুনামগঞ্জবাসী সর্বোচ্চ অবস্থানে বাস করে না। তাই আপনার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়া পৌরকর সুনামগঞ্জ পৌরবাসীর বোঝা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
প্রিয় মেয়র,‘আপনার পৌরবাসী আপনাকে ভালোবাসে বলেই আপনাকে মেয়র হিসেবে মনোনয়ন করেছে। আপনাকে তাদের প্রতিনিধি বলেই বিশ্বাস করে। আপনার প্রতি তাদের ভালোবাসা বেশী বলেই নানাবিধ প্ররোচনা স্বত্ত্বেও রাস্তায় নেমে আসেনি। কথিত উন্নয়নের দোহাই দিয়ে মাননীয় মেয়র আপনি কি ধীরে ধীরে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন ? তবে মাননীয় মেয়র কাদের জন্য এই উন্নয়ন? মানুষের অন্তরের ভাষা বুঝুন, মানুষ নিশ্চয়ই আপনাকে ভুলে যাবে না। সকল পৌরবাসীই চায় তার প্রিয় পৌরসভার উন্নয়ন হোক তা আপনার হাতেই হোক তাতেও আপত্তি নেই কিন্ত কারো বুকে বোঝা চাপিয়ে দিয়ে উন্নয়ন নিশ্চয়ই কারো কাম্য হতে পারেনা ? প্রিয় মেয়র আপনি কি সারা শহরে আপনার পৌরবাসীর বেদনার্ত হাহাকার শুনতে পারছেন না? বিগত দুই দিন ধরে শহরে মাইকিং হচ্ছে, বলা হচ্ছে ভীত না হওয়ার জন্য, ব্যাপারটা কি বুকে ছুরি মেরে মলম হাতে দিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মতো হয়ে যাচ্ছে না ?
বাবুল মিয়া নামের একজন ফেইসবুকে লিখেছেন,‘বাজারে নানা জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। তেমনি পৌরসভার করও বাড়তে পারে। তাই বলে এত টাকা বাড়ার কোন নজির তো পৃথিবীতে কোথাও ঘটেছে বলে জানা নেই। ৪৫০ টাকার কর এমনভাবে বেড়েছে ২৮ হাজার টাকার উপরে চলে গেছে। আবার কারো ৩ থেকে ৩ হাজার, ৪শ’ থেকে ৪ হাজার ৫শ’ থেকে ৫ হাজার টাকা বেড়েছে। এসব বিষয় পৌর মেয়র সাহেবের বিচক্ষণতার সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’
রুবেল নামের আরেকজন লিখেছেন,‘ তেল, লবণ, মরিচ, সাবান, কেরোসিনের দাম বাড়ে, আমাদের করও কিছু বাড়তে পারে। কিন্তু শ থেকে হাজার টাকা বাড়বে কি করে। হাজার থেকে কয়েকগুন বেড়ে ১০-২০ হাজার টাকা বাড়বে কি করে। কেউ তো একতলা বাড়ি ১০ তলা করে নি। এসব বিষয় মাননীয় মেয়র সাহেবের বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আমার মনে হয় যারা কর নির্ধারণ নিয়ে কাজ করেছেন তারা মেয়র সাহেবকে না জানিয়েই করেছেন। এজন্য পুরো শহরজুড়ে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’
আশরাফ শাহীন নামের একজন লিখেছেন,‘মাননীয় মেয়র ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, জনগনের কষ্ট হবে এ ধরনের কোন ট্যাক্স পৌরবাসীর উপর আরোপ করবেন না। জনগনের পৌর পিতা নিশ্চয়ই সেটা সুদৃষ্টিতে বিবেচনা করবেন।’
পৌর মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুল বলেছেন,‘বাসা-বাড়ি, বাণিজ্যিক-আবাণিজ্যিক ভবনের পৌরকর নির্ধারণের বিষয়টি সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী গেজেট মোতাবেক করা হয়েছে। দুই বছর আগেই পৌর কর বৃদ্ধির চিঠি এসেছিল। দীর্ঘ দিন পৌরসভার কর নির্ধারণ না করায় করদাতাদের নিকট বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। এই জন্য আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ পৌরসভার ‘কর রিভিউ কমিটি’তে নাগরিকগণের আপত্তি জানানোর বিস্তর সুযোগ রয়েছে। কর রিভিউ কমিটি’তে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সহনশীল পর্যায়ে কর নির্ধারণ চূড়ান্ত করা হবে। বোঝা হয় এমন কোন করারোপ করা হবে না’।
- কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে আইনজীবী সমিতির কর্মসূচি
- ৮ বছর ধরেই পিলার দেখছেন এলাকাবাসী- ছাতকে সুরমা সেতু হবার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে


