আকরাম উদ্দিন
কাদা ও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে পৌরশহরের প্রধান মাছ বাজার কিচেন মার্কেট। কিচেন মার্কেটের বিভিন্ন স্থানে ময়লা আবর্জনা ও কাদা জমে থাকায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কিচেন মার্কেটের সমস্যা দুরীকরণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের।
কিচেন মার্কেটের সামনের দুই প্রবেশ দ্বারে বৃষ্টির দিনে যেমন ময়লা আবর্জনা ও কাদায় ভরপুর থাকে, তেমনি শুকনো মওসুমেও ময়লা আবর্জনা ও কাদা লেগেই থাকে। এই কারণে ক্রেতা ব্যবসায়ীরাও প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কিচেন মার্কেটের ভেতরের প্রতিটি গলির মেঝেতে ভেঙে যাওয়া ফ্লোরে ময়লা পানি জমে থাকে। একই অবস্থা কিচেন মার্কেটের বাইরের চত্ত্বরেও।
কিচেন মার্কেটের সামনের চত্ত্বরে প্রতিদিন ৪০-৫০ টি কাভার্ডভ্যান ও লেগুনা মাছ নিয়ে আসা যাওয়া করে। মাছের ড্রামের পানি পড়ে ও আবর্জনায় চত্ত্বরে কাদার সৃষ্টি হয়। মার্কেটের উত্তর দিকে মাছ ব্যবসায়ীদের বসার পাকা স্থানও ভেঙে গেছে। বাথ রুমের ভেতরে চারটি বেসিন নষ্ট হয়ে আছে। বাথরুমের একটি অংশের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। ব্যবসায়ীদের নদীরঘাটে নৌকা থেকে মাছ নিয়ে উঠানামার ব্যবস্থা নেই। কিচেন মার্কেটের উপরে উঠানামার সিঁড়ি এবং দোতলার উপরে আবর্জনা জমে আছে। একারণে মার্কেটে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
বাজারে আসা ক্রেতা সাজাউর রহমান বলেন, কিচেন মার্কেট ঢোকার কথা মনে হলে মন খারাপ হয়। মার্কেটের বাইরে ভেতরে নোংরা পানি আটকে থাকে। এই নোংরা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা উচিৎ। সেই সাথে ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
ক্রেতা আব্দুশ সহিদ তালুকদার বলেন, কিচেন মার্কেটে প্রবেশের আগে মেইন সড়কে ময়লা ও কাদার ভাগাড় রয়েছে। এই ময়লা আবর্জনা থেকে পঁচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। পরিবেশ রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সুমন মিয়া বলেন, ভাঙা ফ্লোর থাকায় পানি আটকে থাকে এবং কাদার সৃষ্টি হয়। মার্কেটের ভেতরে ও বাইরে চলাচল করতে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই ভোগান্তি নিরসনে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
কিচেন মার্কেট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন, কিচেন মার্কেটের প্রতিটি গলি পানি নিষ্কাশনের উপযোগি করে সংস্কার করা জরুরি প্রয়োজন। মার্কেটের বাইরের চত্ত্বরটিও মাছের নোংরা পানি পড়ে বার মাস কাদা লেগে থাকে ।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লোহ বলেন, কিচেন মার্কেট ব্যবস্থাপনা কমিটিকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব দেয়া আছে। এরপরও যদি পরিচ্ছন্ন রাখতে কোনো সমস্যা হয়, তবে আমাদেরকে জানানোর জন্যও বলা আছে। কিচেন মার্কেটের কোনো সংস্কার প্রয়োজন হলে আমাদেরকে জানালেই ব্যবস্থা করা হবে। পানি নিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়রের সঙ্গে কথা বলবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।


