প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ট জনজীবন

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
বৈশাখের প্রচণ্ড দাবদাহে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষের জীবন৷ এতে কষ্টে কালাতিপাত করছেন উপজেলার খেটে খাওয়া মানুষেরা। গ্রীষ্মের এমন দিনে বৃষ্টিপাত থাকার কথা থাকলেও গত এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির কোনো দেখা নেই। এর আগে মাঝে মাঝে ধুলাভেজা বৃষ্টি হলেও স্বস্তি ফিরেনি জনমনে। সোনার বৈশাখী তুলে এখন বৃষ্টির অপেক্ষায় উপজেলাবাসী।
উপজেলার একাধিক শ্রমজীবী মানুষেরা জানান, বৈশাখ মাসের প্রায় শেষ। দু’চারদিন পরই জ্যৈষ্ঠ মাস শুরু হবে। এখন নিয়মিত বৃষ্টিবাদল হওয়ার কথা থাকলেও একেবারেই বৃষ্টি শূন্য শান্তিগঞ্জ উপজেলা। এতে উপজেলার তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিদিনই থাকছে প্রখর রোদ। কড়া রোদে কাজ করতে গায়ের চামড়া পুড়ে যাওয়ার অবস্থা। কৃষকেরা এখন খলায় (ধান শুকানোর জায়গা) শুকাচ্ছেন। ঝিমধরা তাপদাহে বিঘিœত হচ্ছে কাজ। রিকশা-ভ্যান চালক, দিনমজুরেরা কাজ করতে প্রচ- বেগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে, চলছে এসএসসি পরীক্ষা। গরমে হাপিত্যেশ শিক্ষার্থীদের মাঝেও। বাসা-বাড়িতে গরমের কারণো হাঁসফাঁস করছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। বিদ্যুতও থাকেনা সব সময়।
রিকশা চালক আতাউর রহমান বলেন, জীবন খুবই কঠিন। এতো গরম পড়েছে, মন ইচ্ছে করে না ঘর থেকে বের হওয়ার- কিন্তু পেটের দায়ে প্যাডেল ধরতে হয়। খুব গরম লাগছে।
কৃষক তারিক মিয়া ও কলা বিক্রেতা জনিক মিয়া বলেন, আমাদের জীবনে এতো গরম খুব কম দেখেছি। কাজে যেতে পারছি না। রাস্তাঘাট আগুনের মতো গরম হয়ে থাকে। পা ফেলা যায় না।
চা বিক্রেতা আমির উদ্দিন বলেন, যে গরম পড়েছে বেঁচে থাকাও দায়। মানুষ চা খেতে আসেন না। প্রচ- গরম। মানুষ যেদিকে যায়, সেদিকেই গরম।
রাজধানী ঢাকার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ একে এম নাজমুল হক জানান, আগামী ৪৮ ঘন্টা আবহাওয়া এভাবেই শুষ্ক থাকবে।