প্রচারের অভাবে ওএমএস পয়েন্টে ক্রেতা নেই

সাইদুর রহমান আসাদ

গৌরারংয়ের দিনমজুর নানু দাস। প্রতিদিন সুনামগঞ্জ শহরে কাজ করে বাড়ি ফিরেন। বৃহস্পতিবারও তিনি কাজ শেষে ৪৫ টাকা কেজি দরের চাল কিনে নিয়েছেন। বললেন, ‘সবতার দাম বেশি, চাউলের দাম কম থাকলে জানটা বাঁচতো।’ দিনমজুর নানুর জানা নেই, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সুনামগঞ্জ শহরের নয় পয়েন্টে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া হয়েছে।
কেবল নানু দাস নয়। সুনামগঞ্জের হতদরিদ্র মানুষের অনেকেরই জানা হয় নি চাইলেই ৩০ টাকা কেজিতে এখন চাল কিনতে পারবেন।
প্রত্যেক চালের ডিলার চারশ জন ক্রেতার কাছে চাল বিক্রয় করার কথা থাকলেও সুনামগঞ্জ শহরের তেঘরিয়া ওএমএস কেন্দ্রের ডিলার বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত বসে ক্রেতা পেয়েছেন ১২৮ জন।
এই মহল্লার হোসেন আহমদ সৌরভ বললেন, গ্রামের বহু মানুষ বৃহস্পতিবারও ৪৫ টাকা কেজিতে চাল কিনেছেন। ৩০ টাকা কেজিতে চাল দেওয়া হচ্ছে, এই খবর বেশির ভাগ গরীব মানুষই জানেন না। আমি নিজেও শুনি নি ওএমএস’র চাল বিক্রয় হচ্ছে। হোসেনের মতে, ওএমএস’র প্রচার হলে এবং সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চাল বিক্রয় হলে দুই টন চালে পুষাবে না তেঘরিয়া এলাকায়।
ওএমএস’র চাল বিক্রয়ের প্রচারণায় এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার কাজে সরকারি দল আওয়ামী লীগের তৎপরতাও কম রয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম বললেন, এই বিষয়ে আমাদের অবহিত করা হয় নি। সম্পৃক্ত করলে ভালো হত। সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেনও একই মন্তব্য করলেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নকিব সাদ সাইফুল ইসলাম বললেন, বাজারে ৪৫ টাকা কেজির কমের কোন চাল নেই। এই অবস্থায় ওএমএস কেন্দ্রে ভিড় থাকার কথা। আমাদেরও মনে হচ্ছে আরও প্রচার প্রয়োজন। আমরা প্রচারের উদ্যোগ নেব। যেখানে গবির মানুষের বসতি বেশি, সেখানে বিক্রয় কেন্দ্র করারও উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার নয় ওয়ার্ডে নয় কেন্দ্রসহ ৩১ কেন্দ্রে ওএমএস’র বিক্রয় কেন্দ্র করা হয়েছে। যে কেউ এখানে এসে শুক্র ও শনিবার ছাড়া অন্য পাঁচদিন চাল কিনতে পারবেন। কোন ধরণের আইডি কার্ড বা শনাক্তকরণের কিছুই লাগবে না। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায়ও কয়েকদিনের মধ্যেই জেলা ব্যাপী ৯৩ হাজার মানুষকে চাল দেওয়া হবে। মাসে একদিন ১৫ টাকা কেজিতে ৩০ কেজি চাল পাবেন তারা। সুনামগঞ্জ শহরতলির মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে একটি এলাকায় আজ শনিবার থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে চিনি, ডাল, সোয়বিন ও পেঁয়াজ বিক্রয় শুরু হবে। টিসিবির সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক অফিস শেরপুরের আঞ্চলিক কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, চার অথবা পাঁচ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের গোদামে টিসিবির মাল পৌঁছে দেওয়া হবে। তারা ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ডিলারদের মালামাল দেবেন। ওইদিন থেকে কার্ডধারীরা টিসিবির পণ্য পাবেন।