প্রতারণার শিকার মুক্তিযোদ্ধা কাকন বিবি

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রতারণার শিকার হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা কাকন বিবি। ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পাওয়ার তদবির করানোর জন্য প্রতারণা করে অসুস্থ কাকন বিবিকে শনিবার সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের লক্ষীপুরের গ্রামের বাড়ী থেকে ঢাকায় নিয়ে গেছে একটি চক্র। এরা রবিবার রাতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন সমন্বয়কারী ওবায়দুল কাদেরের কাছেও তাকে নিয়ে গেছে।
কাকন বিবির মেয়ে সখিনা বেগম বলেন, ‘গত শনিবার বিকালে অসুস্থ মাকে ঘরে রেখে বের হয়েছিলাম আমি। কিছুক্ষণ পরে বাড়ী আসলে আমার চাচাতো বোন রাবিয়া জানায় সিলেট থেকে জনতা ব্যাংকের জিএম সাহেব ফোন দিয়ে বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে তাকে (মা’কে) সিলেট যেতে হবে। আমি মনে করেছি ব্যাংক থেকে প্রায়ই ডাকা হয়, এবারও ডাকতে পারে, রাতে ঢাকা থেকে একজন ফোন করে জানান আমার মাকে ঢাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেখেছেন। সঙ্গে আমাদের এক জামাই ছিলো, তাঁর মুঠোফোনটিও কাল থেকেই বন্ধ। এই অবস্থায় আমরা কিছুই জানি না, আজ শুনছি মাকে ওরা গাড়ীতে তুলে দিয়েছে, বাড়ী আসছেন মা’।
জানা যায়, কাকন বিবিকে শনিবার নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, পরে রবিবার রাতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়  নির্বাচন সমন্বয়কারী সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছেও নিয়ে যাওয়া হয়। ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কাকন বিবি দেখা করার সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের আহ্বায়ক ফরিদ আহমদ তারেকও ছিলেন। ওখানে গিয়ে ইউপি নির্বাচনের একজন সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে বলানোর চেষ্টা করানো হয় কাকনবিবিকে।
ফরিদ আহমদ তারেক বলেন-‘আমি কাকন বিবিকে ঢাকায় আনিনি, আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির কার্যালয়ে আমিসহ অনেকেই কাকন বিবিকে দেখেছেন। কাকন বিবি কীভাবে ঢাকায় এসেছেন আমি জানি না’।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন,‘আমি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদেরের কাছে বসাছিলাম, এসময় কাকন বিবি, ফরিদ আহমদ তারেকসহ অনেকেই ঢুকেছেন, কাকন বিবি একটি দরখাস্থও দিয়েছেন এবং কোন এক রাজাকারের ছেলের কথাও মন্ত্রীর কাছে বলেছেন’।
সোমবার সন্ধায় জহিরুল ইসলাম পরিচয় দিয়ে একটি মুঠোফোন (নম্বর ০১৯৩১৭৪৯২৮৬) থেকে এ প্রতিবেদককে ফোন দিয়ে কাকন বিবিকে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। ঐ সময় কাকন বিবি বলেন,‘বাংলাবাজার এলাকায় একটি সেতু দেবার জন্য দাবী জানাতে আমি শেখ হাসিনার কাছে যেতে চেয়েছিলাম, পরে সড়কমন্ত্রীর কাছে গিয়েছি আমি, আমি নিজের ইচ্ছায়ই গিয়েছি’। জহিরুল ইসলামের পরিচয় জানতে চাইলে- ‘নিজেকে একজন প্রভাষক পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, আমি গ্রাম্য সম্পর্কে তাঁর (কাকনবিবির’র) নাতি হই। কাকন বিবিকে তিনিই ঢাকায় নিয়ে গেছেন কী-না জানতে চাইলে, তিনি না সূচক জবাব দিয়ে বলেন, ‘আমি ঢাকায় ছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে’।
প্রসঙ্গত. মুক্তিযোদ্ধা কাকন বিবি মুক্তিযুদ্ধের সময় সেলা সাবসেক্টরে গুপ্তচরের কাজ করে তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করতেন। এজন্য পাক হায়েনাদের অনেক নির্যাতনও তাকে সহ্য করতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর এই অবদানের কথা দৈনিক মুক্তকণ্ঠ ও দৈনিক সংবাদে ছাপা হলে দেশব্যাপি পরিচিতি তৈরি হয় কাকনবিবির। পরবর্তীতে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বাড়ীসহ অনেক সরকারী-বেসরকারী পুরস্কার পেয়েছেন। এখনো জনতা ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা পান এই মুক্তিযোদ্ধা।