প্রতিবছর ১০ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়

* ৫ বছরের নিচে ৬৭% শিশুর মারা যায় পানিতে ডুবে
* জেলায় ৩ বছরে মারা গেছে ৮৯ জন

স্টাফ রিপোর্টার
দেশে ৫ বছরের নিচে ৩০ জন এবং ১৮ বছরের নিচে ৪০ জন শিশু প্রতিদিন পানিতে ডুবে মারা যায়। ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিশু মারা যায় পানিতে ডুবে। ৫ বছরের নিচে ৬৭% শিশুর মারা যাওয়া কারণ পানিতে ডুবা। দেশে প্রতিবছর ১০ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে বাড়ির ২০ গজের মধ্যে বেশি মৃত্যু ঘটে। পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুতে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষে আছে। এসব মৃত্যু রোধে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কাজীর পয়েন্টের একটি কমিউনিটি সেন্টারে দুই দিনব্যাপী পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু বিষয়ক প্রশিক্ষণের প্রথম দিন এই তথ্য জানানো হয়। প্রশিক্ষণের আয়োজন করে গণমাধ্যম ও উন্নয়ন যোগাযোগ সংগঠন ‘সমষ্টি’। এতে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ২০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)।
প্রশিক্ষণে আরও জানানো হয়, ভৌগলিক কারণে সুনামগঞ্জে শিশু মৃত্যুর হার বেশি। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী গত ৩ বছরে মারা গেছে ৮৯ জন। এরমধ্যে ৪ বছরের নিচে ২৭ জন, ৫—৯ বছরের শিশু ৪৭ জন, ১০ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে ৫ জন এবং ১৮ বছরে উর্ধ্বে ১০ জন। ২০২০ সালে ২১ জন, ২০২১ সালে ৩৪ জন এবং ২০২২ সালের এ পর্যন্ত ৩৪ জন পানিতে ডুবে মারা গেছে।
প্রশিক্ষণে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডা. আহম্মদ হোসেন, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন যোগাযোগ সংগঠন ‘সমষ্টি’ এর পরিচালক রেজাউল হক ও প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর মনোয়ার আহমদ, চ্যানেল আই এর জেলা প্রতিনিধি ও সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মহিম।
বক্তারা বলেন, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা জরুরী। সরকারও প্রাথমিকভাবে ১৬ জেলার ৪৫ উপজেলায় শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র করার উদ্যোগ নিয়েছে। যেখানে শিশুদের শিক্ষা ও বিনোদনের মাধ্যমে দেখাভাল করা হবে। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ, তাহিরপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় শিশু একাডেমির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হবে। গত জুন মাসে এই প্রকল্পের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়াও ২০২১ সাল থেকে ২৫ জুলাই বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস পালন করা হচ্ছে। হাজারে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু ২৫ জনের মধ্যে রাখার টার্গেট রয়েছে এসডিজিতে।
বক্তারা বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে কোনো কার্যকর তথ্য ব্যবস্থা এখনো গড়ে উঠেনি। আবার গণমাধ্যম প্রতিবেদনগুলো শুধুমাত্র ঘটনাকেন্দ্রীক। এ নিয়ে গভীরতাধর্মী প্রতিবেদনের অভাব রয়েছে। গভীরতাধর্মী প্রতিবেদনে গণমাধ্যমগুলো গুরুত্ব দিলে বিষয়টি নীতি—নির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পাবে এবং এ নিয়ে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়টিকে ত্বরান্বিত করবে।
আগামীকাল বুধবার প্রশিক্ষণ শেষ হবে।