স্টাফ রিপোর্টার
প্রতিদিন দুপুরে কয়েকজন তরুণ রান্না করা খাবার নিয়ে বের হন সুনামগঞ্জ পৌর শহরে। এরপর বিভিন্নস্থানে রাস্তার পাশে, যাত্রী ছাউনিতে, পরিত্যক্ত ঘরের বারান্দা, মার্কেটের খালি জায়গা অথবা খোলা আকাশের নিচে থাকা শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী অসহায় মানুষদের হাতে এই খাবার তুলে দেন। করোনাপরিস্থিতিতে এভাবে শহরে ঘুরে ঘুরে খাবার বিতরণের শততম দিন ছিল গতকাল শুক্রবার।
শততম দিনে এই তরুণদলের সঙ্গে উপস্থিত থেকে এসব প্রতিবন্ধী অসহায় মানুষদের হাতে খাবার তুলে দেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ। এ সময় বিতরণ করা হয় ১০০টি মাস্ক। এই তরুণেরা নিজেদের অর্থে খাবার বিতরণ শুরু করলেও এখন জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার লোকজন এই মানিবক কাজে সহযোগিতা করছেন। গত ২৬ মার্চ থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেন তারা।
শহরের বিভিন্নস্থানে থাকা এসব মানুষেরা রেস্তোরাঁ অথবা খাবারের দোকানের উচ্ছিষ্ট নিয়েই খেয়ে দিন কাটান। এই মানুষগুলোকে ‘পাগল’ বলে অনেকেই এড়িয়ে যান। এদের কেউ কেউ আবার অসুস্থ। এরা কারো কাছে কোনো কিছু চায় না। অন্য মানুষের কাছেও যায় না। করোনাপরিস্থিতির শুরু থেকে শহরের সব রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই মানুষগুলো পড়েন চরম বিপাকে। এদের মধ্যে বয়স্ক পুরুষ, নারী ও শিশু রয়েছেন। এদের কোনো ঘরবাড়ি নেই।
খাবার বিতরণের এই মানবিক কাজে যুক্তদের একজন হলেন শহরের মধ্যবাজার এলাকার বাসিন্দা জগন্নাথ বণিক। এই তরুণই মূলত এখন এই কাজটির সমন্বয় করছেন। তিনি জানান, করোনার কারণে সুনামগঞ্জে গত ২৫ মার্চ থেকে সব রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকান বন্ধ। এ অবস্থায় শহরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এই অসহায় মানুষগুলো পড়েন খাবার সংকটে। এরপর ২৬ মার্চ থেকে তারা এই কার্যক্রম শুরু করেন। প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০জনকে দুপুরের খাবার দেন তারা। একজনের খাবারে ব্যয় হয় ৭৫টাকার মতো। শততম দিনে পোলাও, মোরগের রোস্ট, ডিম, দই, এক বোতল পানি দেওয়া হয়। প্রতিদিন তাদের ব্যয় হয় প্রায় দুই হাজার টাকা। শুক্রবার খাবার বিতরণে আরও অংশ নেন ফুলেন সূত্রধর, মিলন্ট তালুকদার, চন্দন রায়, দেবব্রত বণিক, ঝুটন বনিক, সুদীপ বণিক, নারায়ন বণিক, জনি বণিক প্রমুখ।
জগন্নাথ বনিক বলেন, শহরের রেস্তোরাঁগুলো খুলে গেলে এই ভাসমান মানুষগুলোর খাবারের সমস্যা অনেকটা মিটে যাবে। যতদিন এটি না হয় ততদিন তিনবেলা না হোক এই সংকটকালে অনন্ত একবেলা যেন এই অসহায় লোকগুলো খেতে পায় সেটার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব।
- হাওরপাড়ের স্বপ্নবিজয়ী শিক্ষা সংগ্রামী তাঁরা
- নমুনা আসেনি, তাই শাবির ল্যাবে শনিবার করোনার পরীক্ষা হয়নি


