প্রতিযোগিতার চূড়ান্তপর্বে আমাদের বিতার্কিকদের সফলতা কামনা করি

একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে উঠার মতো খুশির খবর এনে দিয়েছে জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়। বিতর্ক বিকাশ নামক ওই প্রতিযোগিতায় সারা দেশে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রায় তিন হাজার বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার সবগুলো ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে ইসহাকপুর পাবলিক স্কুলের বিতার্কিক দলÑ তাহসিন রহমান (ঋতু), শরিফা বেগম, বুশরা বেগম, সৈয়দ সালমান ও আব্দুল আহাদ শেষ ধাপে পৌঁছে গিয়ে আমাদেরকে অশেষ আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়েছেন। এই তরুণ বিতার্কিক দলকে এবং অবশ্যই তাদেরকে যেসব শিক্ষক অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন সকলকে আমরা অভিনন্দন জানাই। বিতর্ক বা যুক্তির ব্যবহার হলো আধুনিক সমাজ গড়ার মূল উপাদান। আবদ্ধ সমাজে যুক্তিবোধ বিকশিত হয় না। কিন্তু মুক্ত সমাজে সবকিছুই আবর্তিত হয় যুক্তিবোধকে ঘিরে। দুনিয়া আজ যে উৎকর্ষতা পেয়েছে সেখানে যুক্তিবাদীতার ভূমিকাই সবচাইতে বেশি। এরকম একটি আধুনিক চর্চায় যে ছেলে-মেয়েরা আজ ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়েছে তারা নিশ্চয়ই আমাদের আলোকিত সন্তান। এদের মুখেই আমরা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চিত্র দেখি।
ইসহাকপুর পাবলিক স্কুলের বন্ধুরা তাদের সেমিফাইনাল পর্বে যে বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে যুক্তির ঝাঁপি খুলেছিলেন সেটি হলো- ‘জিপিএ-৫ পাওয়ার আকাক্সক্ষাই গুণগত শিক্ষার প্রধান অন্তরায়’। তারা বিষয়বস্তুর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। জিপিএ-৫ পাওয়া নিয়ে একটি উচ্চমাত্রার বিতর্ক আমাদের সমাজে বেশ কয়েক বছর যাবৎ চালু আছে। বিশেষ করে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধার স্তর যখন আকাক্সিক্ষত পর্যায়ে না পৌঁছার বিষয়টি সকলের সামনে আসে তখন এই বিতর্ক আরও ব্যাপকতা পায়। যুক্তির বিচারে জিপিএ-৫ পাওয়া মানে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার সর্বোচ্চ মেধাবী তারাই। কিন্তু এই মেধাবীরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় নানা বিষয়ে পাসমার্ক তুলতেই ব্যর্থ হন তখন ওই বিতর্কের পালে যে হাওয়া লাগে তা বলার অবকাশ থাকে না। জিপিএ-৫ পাওয়ার যে প্লাবন চলছে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে সেটির মূল কারণ কী এবং এ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধাবী বানানোর উপায়ই বা কী এ নিয়ে শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা নানা ধরনের বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা নিয়ে হাজির হচ্ছেন। বলাবাহুল্য হালফিল বিষয়বস্তু হিসাবে বিতর্কটি জমে উঠারই কথা। এবং এই জমাটি বিতর্কে নিজেদের শাণিত যুক্তি ও বাক্যবিস্তার দ্বারা বিজয়ী হওয়ার বিষয়টি তাদের যোগ্যতাকে প্রমাণিত করেছে। আমরা ইসহাকপুর পাবলিক স্কুলের বিতার্কিক বন্ধুদের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার সফলতা কামনা করি।
এর আগেও আমরা জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জেলার সফলতা দেখেছি। বিশেষ করে ছাতকের চন্দ্রনাথ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এক্ষেত্রে বোধ করি সবচাইতে বেশি সফলতা দেখিয়েছে। আমরা চাই বিতর্কের এই আলো জেলার সবগুলো বিদ্যায়তনে ছড়িয়ে যাক। বিশেষ করে উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়গুলোতে এর ব্যাপকতা পাওয়া আবশ্যক। এজন্য রাষ্ট্রের কীছু করণীয় রয়েছে। নিয়মিত জেলা পর্যায়ে উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ভিত্তিক বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। এই ধরনের প্রতিযোগিতা থাকলে সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিতর্কের প্রতি মনোযোগি হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। বিতর্কে অংশগ্রহণ করা মানেই নতুন নতুন বিষয়ে জানার পরিধির বিস্তার ঘটানো, সুখশ্রাব্য ও প্রমিত উচ্চারণ রীতির চর্চা এবং নিজেদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন। আশা করি সংশ্লিষ্টরা এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিবেন।