প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পার/ উন্নয়নের ছোঁয়া বঞ্চিত বংশীকুন্ডা কলেজ

মধ্যনগর সংবাদদাতা
প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত মধ্যনগর উপজেলার একমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বংশীকুন্ডা কলেজ। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২১৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে।
জানা যায়, ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় বংশীকুন্ডা কলেজ। এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রম ও আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। কলেজটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে গুণগত মানের ফলাফলও হচ্ছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এখনও এমপিওভুক্ত হয়ি ন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুটি টিনশেড ঘরে পাঠদান ও একটি সেমিপাকা ঘরে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
২০১৫ সাল থেকে কলেজের শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষা অংশগ্রহণ করছে। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে কলেজের ৮৭ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে ৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। একজন সাধারণ বৃত্তি লাভ করেছে। পাশের হার ৯৬.৪২ শতাংশ। ১১ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী প্রায় বিনা বেতনে কলেজে কর্মরত রয়েছেন।
কলেজের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম বলেন, এখানে গরিবের সন্তানরাই পড়াশোনা করতে আসে। শ্রেণিকক্ষে একটা ফ্যানও নেই। অসহ্য গরমে কোনো রকম বসে ক্লাস করতে হয়। একাডেমিক ভবন নির্মাণ হলে ভালো হত।
শিক্ষার্থী অভিভাবক ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, এই কলেজটি না হলে এলাকার আশি ভাগ মেয়ে শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করার সুযোগ পেত না। পঞ্চাশ ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়তো। কলেজটির উন্নয়নে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। কলেজটি এমপিওভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছি আমরা শুরু থেকেই।
কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত এক দশকে কলেজের শিক্ষার মান উন্নত হলেও শিক্ষক কর্মচারীদের জীবনের মান উন্নত হয়নি। স্বেচ্ছাশ্রমে সন্তান সমতুল্য শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছি। দশ বছরে টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলো জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ভবন থাকার পরেও নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে, কিন্তু বংশীকুন্ডা কলেজে ভবনতো দূরের কথা, একটা সরকারী অনুদানও আসেনি।’
কলেজের অধ্যক্ষ নূরুল আমিন বলেন, বংশীকুন্ডা কলেজ মধ্যনগর উপজেলায় একমাত্র স্বতন্ত্র কলেজ। বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ জাতীয়করণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আশাবাদী বংশীকুন্ডা কলেজকেই জাতীয়করণ করা হবে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, দুর্গম হাওর এলাকায় বংশীকুন্ডা কলেজের ফলাফল খুব ভালো। কলেজটি এমপিও ভুক্তির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।