প্রত্যন্ত ২২ ইউনিয়নে ভোট আজ- ৩০ কেন্দ্রে জবরদস্তির আশংকা প্রার্থীদের

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলার সবচেয়ে প্রত্যন্ত উপজেলা ধর্মপাশার ১০ ইউনিয়নসহ জেলার ৪ উপজেলার ২২ ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ আজ (শনিবার)। হাওরাঞ্চলের ৩ উপজেলার মধ্যে ধর্মপাশার ১০ ইউনিয়নেই ভোট কারচুপি, জাল ভোট এবং প্রভাবশালী প্রার্থীদের সমর্থক কতৃক কেন্দ্র দখলের আশংকা বেশি। এই উপজেলার ১০ ইউনিয়নের ৩০ টি কেন্দ্রে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন স্ব স্ব ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। ধর্মপাশায় প্রার্থীদের কেউ কেউ বলেছেন,‘সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করার জন্য এসব কেন্দ্রে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকতে হবে’। এছাড়া জামালগঞ্জের ৪, তাহিরপুরের ৭ এবং জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ ইউনিয়নে শেষ দফার এই ভোট গ্রহণে শঙ্কা রয়েছে প্রার্থীদের।
ধর্মপাশার চামরদানী ইউনিয়নে চামরদানী, দুগনই, রামদিঘা, আবিদনগর ও সাজদাপুর কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান এবং জোর জবরদস্তির আশংকা করেছেন ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক প্রভাকর তালুকদার পান্না। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী’র লোকজন এমন কাজ করতে পারে বলে আশংকা তাঁর।
পাইকুরাটি ইউনিয়নের পাইকুরাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেতইজুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সুনুই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জোর জবরদস্তি হতে পারে বলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোজাম্মেল হক ইকবাল আশংকা ব্যক্ত করেছেন।
মোজাম্মেল হক ইকবাল বলেছেন,‘আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী’র সমর্থকরা আগে থেকেই বলে আসছেন ১২ টার মধ্যেই ভোট শেষ হয়ে যাবে, বাক্সও ধর্মপাশায় চলে যাবে’।
মধ্যনগরের আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেছেন,‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েও কোন কোন কেন্দ্রে অসহায় আমার সমর্থকরা’।
ইউনিয়নের গলহা, আরিফপুর ও কামাউড়া কেন্দ্র দখল এবং জাল ভোট হতে পারে বলে শঙ্কা এই প্রার্থীর। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী’র সমর্থকরা এসব কেন্দ্র দখল করতে পারে বলে আশংকা তাঁর।
বংশিকু-া উত্তর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী বিল্লাল  হোসেনের আশংকা ইউনিয়নের রূপনগর কেন্দ্র আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবং মাটিরাবন প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাকাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়, গিলাগড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালাগড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী’র সমর্থকরা জাল ভোট ও জোর জবরদস্তি করতে পারে।
বংশিকু-া দক্ষিণ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের অভিযোগ এই ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়া, গড়াকাটা, টিবিরপুর ও হামিদপুর কেন্দ্রে জোর জবরদস্তি ও জাল ভোট হতে পারে।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাঈদুর রহমান বলেন,‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী’র সমর্থকরা প্রচার দিচ্ছেন ১২ টার আগেই সকল ভোট কাস্ট করে নেবেন তারা’।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন,‘২২ ইউনিয়নে ১৩২০ জন পুলিশ, ২৭১ কেন্দ্রের প্রতি কেন্দ্রে ১৭ জন আনসার, পুলিশের ৪৫ টি মোবাইল টিম, ৯ প্লাটুন বিজিবির ২৭ টি টিমে ১ জন করে ম্যাজিষ্ট্রেট, ৩ প্লাটুনে ৮০ জন র‌্যাব সদস্য, প্রতি উপজেলায় জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে’। তিনি জানান, ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে, প্রভাবশালী কারো নাম ব্যবহার করে কিংবা দল বা ব্যক্তির পরিচয় অন্যায় কিছু করার সুযোগ থাকবে না।