প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ফিরলো শূন্য হাতে

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ শহর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল নয়টা থেকেই চলছিল বই উৎসব। নতুন বই হাতে পেয়ে উল্লসিত ছিলো বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই। তবে ভীষণভাবে মন খারাপ ছিল, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের।
এই স্কুল থেকে বিষন্ন মনে ফিরছিল দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সালুয়া সামস ওয়াদির। মন খারাপ কেন জিজ্ঞেস করলে কথা বললো না সালুয়া। সালুয়ার বাবা আব্দুল হালিম বললেন, বই না পেয়ে মন খারাপ করেছে সে। এর আগে বছরের শুরুতে বই পেয়েছিল। এবারও বই নিতে প্রথম দিনই আসলো। বই না নিয়েই ফিরছে সে। তিনি জানালেন, শিক্ষকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, কবে বই পাব, তাও তারা বলতে পারেন নি। একই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিয়া তাবাসসুম মন খারাপ করেই বাড়ি ফিরছিল।
কেবল সালুয়া ও তাসনিয়া নয়। জেলাজুড়েই এবার বই উৎসবে ছিল আনন্দ-বিষাদের ছায়া। যারা বই পেয়েছে তারা ছিল হাসি-খুশি। যারা পায় নি তাদের ছিল মন খারাপ।
জেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সদরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ বললেন, বই না পেয়ে ছোট্ট শিশুদের বিশেষ করে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা মন খারাপ করেছে। আমরা ইতিবাচকভাবে আশ^াস দিয়ে বলেছি, ‘শীঘ্রই বই আসবে, তোমরা বই পাবে।’ তিনি জানালেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকেও এভাবেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কবে বই আসবে সেটি জানানো হয় নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দায়িত্বশীলরা জানান, জেলার ১১ উপজেলার মোট চাহিদার ৩৫ ভাগ বই পাওয়া গেছে। প্রথম শ্রেণির জন্য দুই লাখ ৫৯ হাজার ২১৫ টি ও দ্বিতীয় শ্রেণির দুই লাখ ৫০ হাজার ৪৫৫ টি বইয়ের মধ্যে একটি বইও পাওয়া যায় নি। এছাড়াও জেলার সদর, দোয়ারাবাজার, বিশ^ম্ভরপুর, ছাতক ও তাহিরপুর উপজেলার প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির কোন বই বরাদ্দ পাওয়া যায় নি।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বই ছাপার দায়িত্ব পেয়েছিল রাজধানীর জাহানারা প্রিন্টিং প্রেস, এরা বই সরবরাহ করতে পারে নি। অগ্রণি প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্সকে যে সব ছাপার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেগুলো পাওয়া গেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আব্দুর রহমান বললেন,‘ কাগজ সরবরাহের ঘাটতির কারণে বই ছাপায় বিলম্ব হয়েছে। একারণে কিছু কিছু উপজেলায় বই পায় নি, বই উৎসবের জন্য পাশর্^বর্তী উপজেলা থেকে বই আনা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কোন বই এখনও সুনামগঞ্জ জেলায় পাওয়া যায় নি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহতি করা হয়েছে। আশা করছি আগামী ১০ দিনের মধ্যে সব বই পাওয়া যাবে।’
এদিকে রবিবার সকালে সুনামগঞ্জের শহর বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শেখ মহি উদ্দিন, সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুব জামান, সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েতুর রহিম বাবর প্রমুখ।
এর আগে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক দিদারের আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম।
বেলা ১১টায় সুনামগঞ্জ অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রগ্রেস রিপোর্ট বিতরণ, এবং বিনামূল্য পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শেখ মহি উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা ডা. তানজিল হক, দাতা সদস্য প্রতিনিধি মো. জিয়াউল হক। অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রধান শিক্ষক,সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীদের অভিবাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে কেক কেটে নতুন বছর বরণ করেন জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী।