প্রথম দিনে জেলা সদরসহ উচ্ছেদ শুরু হল ৫ উপজেলায়

আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জে নদী তীরে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সোমবার অভিযান শুরু হয়েছে। সকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বড়পাড়া এলাকায় সুরমা নদীর তীরে এই অভিযান শুরু হয়। এ সময় জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকালে পৌর শহরের বড়পাড়া এলাকায় সুরমা নদীর তীরে থাকা কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জে নদী, খাল, জলাশয় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। বড়পাড়ার পরে শহরের সাহেববাড়ী এলাকায় সুরমা নদীর তীরে অভিযান চালানো হয়। সোমবার সদর উপজেলার এই দুই স্থানে নদী তীরে থাকা ১১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এই ১১টি স্থাপনার মধ্যে ছিল বাসা-বাড়ি, দোকান, গোদাম ইত্যাদি। এগুলো হাতুড়ি-শাবল দিয়ে আংশিক ভেঙ্গে ফেলা হয়।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মোকলেছুর রহমান অভিযান চলাকালে বলেন, ‘সারা দেশের ন্যায় সুনামগঞ্জের নদী, খালসহ জলাধার দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়েছে। শুধু সুনামগঞ্জ শহরে নয়, উপজেলাগুলোতেও অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযান চলবে।
সুরমা নদীর তীরে অভিযানকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান, সুনামগঞ্জে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. এমরান হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি) মো, হারুন অর রশিদ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ আদনান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জামালগঞ্জ উপজেলার সুরমা, দৌলতা নদীর তীরে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান হয়েছে। উপজেলার ভীমখালি ইউনিয়নের লালবাজার এলাকায় দৌলতা নদীর তীরে সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পালের উপস্থিতিতে এই অভিযান শুরু হয়। দিনব্যাপী অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২২টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা শামসাদ বেগম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল আমিন সরকার উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া জেলার জগন্নাথপুর উপজেলাতেও নলজুর নদীর তীরে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান হয়েছে সোমবার। অভিযানে নেতৃত্বে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম। তাহিরপুর উপজেলায়ও অভিযান হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জীর নেতৃত্বে যাদুকাটা নদীর তীরে থাকা কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যবাজারের একাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো ওবায়দুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু তালেব।
সম্প্রতি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত তালিকায় সুনামগঞ্জের ৮টি উপজেলার ১৪টি ছোট ও বড় নদীর তীর এবং খাল দখলকারী হিসেবে ৬৬৮ জনের নাম রয়েছে। গত মে মাসে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনে এই তালিকা পাঠানো হয়েছিল। তবে জেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, কমিশনে পাঠানো তালিকাটি তাৎক্ষণিক করা হয়েছিল। তাই তালিকার বাইরে থাকা দখলদারদেরও এখন চিহ্নিত করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেছেন, জেলার নদী, খাল, নালা ও হাওরের তীর দখল করে গড়ে তোলা ২৪৯টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। সোমবার থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। প্রথম দিন কয়েকটি উপজেলায় হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।