প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া মিলুক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাবা-মায়েদের প্রতি সন্তানদের কাছে টেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, নিজেদের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে একটু সময় দিন। আরও বেশি করে সময় দিয়ে তাদের মনের কথাটা একটু শোনার চেষ্টা করুন। তাদের সঙ্গ দেওয়া এবং তাদের কী চাহিদা সেটা জানা, তাদের আরও কাছে টেনে নেওয়া, তাদের ভালো-মন্দ, সমস্যা সেগুলো দেখা এবং ছেলেমেয়েরা যেন মন খুলে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারে, তাদের সে সুযোগ করে দেওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ছেলে-মেয়েরা কী করছে, সেদিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া প্রতিটি বাবা-মায়ের কর্তব্য। তারা কোথায় যায়, কী করে, কার সঙ্গে মেশে, সেসব ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া দরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসএসএফের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।
দেশে গত বেশ কিছুদিন ধরে জঙ্গিদের হাতে মানুষ মরছে। অপরাধ বিশেষকরা বলছেন, সব হত্যাকা-ের ধরন প্রায় একই রকম। আবার যেসব সন্ত্রাসী ধরা পড়ছে বা ঘটনাস্থলে মারা পড়ছে তারা সবাই বয়সে তরুণ। গুলশানে জিম্মি ঘটনায় বেশ কয়েকজন দেশি-বিদেশিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। জিম্মি ঘটনার অবসানে যেসব সন্ত্রাসী মারা গেছে, তারা বয়সে তরুণ। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে আক্রমণ চালাতে গিয়ে যারা ধরা পড়েছে, পরবর্তীতে গ্রেফতার হয়েছে, তারাও বয়সে তরুণ। জানা যাচ্ছে, বিপথগামী এসব তরুণের প্রায় সবাই সচ্ছল পরিবারের সন্তান। তাদের কেউ কেউ পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কহীন হয়ে জঙ্গি তত্পরতায় জড়িয়ে পড়েছে। কারও কারও সম্পর্কে এমন তথ্য মিলছে যে তারা পরিবার থেকে নিখোঁজ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সন্তানদের খোঁজ-খবর রাখার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা খুবই সময়োপযোগী।
একসময় আমাদের সমাজে একান্নবর্তী পরিবারের ঐতিহ্য ছিল। সময়ের বিবর্তনে একান্নবর্তী পরিবার থেকে জন্ম নিয়েছে ছোট ছোট একক পরিবার। বাস্তবতার কারণে পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। এক সময় পরিবারের সদস্যদের মেলামেশার গন্ডি ছিল ছোট। এখন সেই মেলামেশার গন্ডি বড় হয়েছে। মেলামেশার গন্ডি বড় হওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় পরস্পরের সঙ্গে সময় কাটানো কমে এসেছে। অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের কার কী সমস্যা, কার কোন চাহিদা কীভাবে মেটাতে হবে ইত্যাদি বিষয়ে অনেকেই খোঁজ-খবর রাখেন না। ফলে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানদের মানসিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যেসব তরুণ জঙ্গি হিসেবে ধরা পড়েছে বা যাদের তথ্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আছে, তাদের অভিভাবকরাও সন্তানদের নিখোঁজ হওয়া এবং জঙ্গি তত্পরতায় বিস্মিত হয়ে পড়েছেন। নিখোঁজ থাকার সময়ের মধ্যে তারা যে জঙ্গি কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে, তা তারা অনুমানও করতে পারেননি!
তরুণদের বিপথগামিতা ঠেকাতে পরিবারের শিথিল বন্ধনকে দৃঢ় করতে হবে। তরুণরা অনেকের সঙ্গে মেশে, অনেক বিষয়ে তারা কৌতূহলী হয়। এসব বিষয় নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিশেষত বাবা-মায়ের সঙ্গে খোলামেলা আলাপ-আলোচনার সুযোগ পেলে তাদের বিভ্রান্তি দূর হতে পারে।
রাতারাতি কেউ জঙ্গি-সন্ত্রাসী হয়ে যায় না। পরিবারের তরুণ সদস্যরা কোথায় যাচ্ছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, এসব বিষয় নিয়ে অনর্থক কৌতূহল প্রকাশ না করেও তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করা যায়। এর ফলে সবার মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়বে এবং সন্তানদের পক্ষে কোনো বিষয় লুকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না-আবার প্রয়োজনও হবে না। পরিবার কেবল আশ্রয়স্থল নয়, শিক্ষাকেন্দ্রও বটে। সামাজিক-সাংস্কৃতিক চেতনার উত্সও পরিবার। প্রধানমন্ত্রী সন্তানদের সময় দেওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনুক আমরা সে প্রত্যাশাই করছি।