প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই কেবিনেটে রদবদল করলেন থেরেসা মে

লন্ডন প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই মন্ত্রীসভায় রদবদল করলেন নতুন  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। বুধবার বিকেলে মহামান্য রাণী  এলিজাবেথের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাবেক হোম সেক্রেটারী থেরেসা মে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টেন ডাউনিং স্ট্রীটে প্রবেশের পর নতুন কেবিনেট গঠনের কাজ শুরু করছেন তিনি। নতুন কেবিনেটে চ্যান্সেলার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফিলিপ হ্যামন্ড। চ্যান্সেলারের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে জর্জ অসবোর্নকে। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাবেক চ্যান্সেলার জর্জ অসবোর্নকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। অসবোর্ন এবং থেরেসা মে, দুজনই ২০১০ সাল থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরনের কেবিনেটে ছিলেন।
নতুন চ্যান্সেলর ফিলিপ হ্যামন্ড ইইউ রেফারেন্ডারে সময় রিমেইন ক্যাম্পেইনার ছিলেন। ২০১৪ থেকে চ্যান্সেলারের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরনের কেবিনেটে ফরেইন সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অবশ্য এর আগে অসবোর্নকে ফরেইন সেক্রেটারী বানানো হচ্ছে বলে শুনা যাচ্ছিল। ফরেইন সেক্রেটারীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সাবেক লন্ডন মেয়র ও লিভ ক্যাম্পেইনার বরিস জনসনকে। ধারনা করা হয়েছিল তিনি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রার্থী হবেন। তবে সকলের ধারণা পাল্টে দিয়ে প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। ফরেইন সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে তাকে বেশ হাস্যউজ্জ্বল দেখা যায়।
এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমি সম্মানিত বোধ করছি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী বক্তব্যের বেশ প্রশংসাও করেন। নতুন হোম সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এম্বার র”ডকে। তিনি রিমেইন ক্যাম্পেইনার। ৫২ বছর বয়সী এম্বার ২০১৪ সালে এনার্জি এন্ড ক্ল্যাইমেট চ্যাঞ্জ ডিপার্টমেন্টের জুনিয়র মিনিষ্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে তিনি সাবেক চ্যান্সেলার জর্জ অসবোর্নের পার্লামেন্টারী প্রাইভেট সেক্রেটারী হিসেবে কাজ করেছেন। কেবিনেটে নতুন ডিফেন্স সেক্রেটারী হিসেবে মাইকেল ফলেন বহাল রয়েছেন। তিনি ২০১৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আমলে এ দায়িত্ব পেয়েছিলেন। অপর লিভ ক্যাম্পেইনার ডেভিড ডেভিসকে ব্রেক্সিট সেক্রেটারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। কেবিনেটে এই পদটি নতুন তৈরী করা হয়েছে।
ব্রেক্সিট সেক্রেটারী ডেভিড ডেভিস ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দলের সাবেক লিডার মাইকেল হাওয়ার্ড এবং ডেভিড ক্যামরনের অধিনে শেডো হোম সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ার এবং শেডো ডেপুটি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বেও ছিলেন। ২০০৫ সালে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামর”নের সঙ্গে লিডারশীপ প্রতিযোগিও ছিলেন। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইড সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লিভ ক্যাম্পেইনার ডক্টর লিয়াম ফক্স। এই পদটিও নতুন তৈরী করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের কেবিনেটে। লিয়াম ফক্স ২০১০ সালে ডিফেক্স সেক্রেটারীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তবে ২০১১ সালে তিনি ঘনিষ্ট এক বন্ধুকে ক্ষমতা ব্যবহার করে বিশেষ সুযোগ দেয়ার অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেন।