এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
ধর্মপাশায় বড়ইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় উন্নয়নের অর্থ আত্মসাতের চেষ্টাসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. রেহান উদ্দিন এ নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেল মাসে লিখিত অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার না পেয়ে সম্প্রতি সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা উপকরণ ক্রয়, শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ, খেলাধুলার সরঞ্জাম, টয়লেট মেরামতসহ নানা উন্নয়ন কাজের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রাপিইডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গেল ৩০ জুনের মধ্যে বিদ্যালয় উন্নয়নের কাজ করার কথা থাকলেও এ কাজ এখনো শুরুই হয়নি। তবুও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করে বিল উত্তোলন করার পাঁয়তারা করছেন। এ নিয়ে বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গত ১৮ জুলাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা
কর্মকর্তা ও ২৬ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে কোনো প্রতিকার না পেয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গেল ৮ আগস্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলা শহরে বসবাস করেন। ফলে তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. রেহান উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন সরকারি অর্থ বরাদ্দ আসলেও কোনো সভা না করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভুয়া রেজুলেশন ও স্বাক্ষর জাল করে কাগজপত্র দাখিল করেছেন। এ ছাড়াও ওই শিক্ষক বরাদ্দ পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে উত্তোলন করার পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভুয়া রেজুলেশন ও স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের চেষ্টার বিষয়টি মিথ্যে দাবি করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন জানান, তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন। বিদ্যালয় উন্নয়ন কাজের বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে কাজ করার জন্য সভাপতিকে একাধিকবার বললেও তিনি (সভাপতি) শুনেননি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকেয়া আক্তার খাতুন জানান, আগামীকাল (মঙ্গলবার) তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হক জানান, এ ব্যাপারে তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এখনো তদন্ত প্রতিবেদন পাননি বলেও জানান তিনি। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহমেদ জানান, আগামী রোববার এ অভিযোগের তদন্ত করা হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হযরত আলী জানান, তিনি এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


