জগন্নাথপুরে একটি কারিগরি কলেজ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন বৃটিশÑবাংলা এডুকেশন ট্রাস্ট নামের একটি প্রবাসী সংগঠন। লন্ডনপ্রবাসী জগন্নাথপুরের ১৫৪ ব্যক্তি মিলে এই ট্রাস্ট গঠন করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় জগন্নাথপুরে কয়েকজন ট্রাষ্টীর সাথে সাংবাদিকদের এক মতবিনিময় সভায় ট্রাষ্টের সভাপতি আশিক চৌধুরী এই ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই কারিগরি কলেজ স্থাপনের জন্য ট্রাষ্টের কতিপয় সদস্য দেশে এসেছেন এবং শীঘ্রই কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এরূপ একটি জনহিতকর প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের জন্য আমরা ব্রিটিশÑবাংলা এডুকেশন ট্রাষ্টকে সশ্রদ্ধ অভিনন্দন জানাই। দেশের প্রতি প্রবাসীদের কত ভালবাসা ও দরদ রয়েছে এই ঘোষণা তার বড় প্রমাণ। আসলে প্রবাসীরা সবসময় নানাভাবে দেশে সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকেন। কোন পরিকল্পনার আওতায় সার্বিক উন্নয়নে নিয়োজিত হওয়ার পরিবর্তে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এইসব সহযোগিতা বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রীক হয়ে থাকে। এজন্য প্রবাসীদের কোন দায় নেই। দেশে যারা সামাজিক নেতৃত্বে রয়েছেন এ দায় তাঁদের। কারণ এলাকার উন্নয়নে কোথায় কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা দরকার সেটি চিহ্নিত করে প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করার দায় তাঁদের। প্রবাসে বসবাসকারী স্বজনদের মনে ভালবাসার কোন কমতি নেই। বরং প্রবাসীদের মনে দেশের প্রতি ভালবাসা অনেক বেশি। ব্রিটিশÑবাংলা এডুকেশন ট্রাষ্ট কারিগরি কলেজ স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে বুঝিয়ে দিল আসলে কোন ধরনের সহযোগিতা এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নে টেকসই হতে পারে।
আমাদের সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বহু মানুষ এখন প্রবাস জীবন যাপন করছেন। বিশেষ করে ছাতক ও জগন্নাথপুরের বিপুল পরিমাণ লোক ইংল্যান্ডে ভাল অবস্থান তৈরি করেছেন নিজেদের মেধা ও পরিশ্রমবলে। ইংল্যান্ডপ্রবাসীদের প্রথম প্রজন্ম এখন প্রায় নিঃশেষিত হওয়ার পথে। দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের যারা ইংল্যান্ডে রয়েছেন তাদের মধ্যে যাদের জন্ম প্রবাসে তাদের জন্মভূমি এখন ইংল্যান্ডই। বাংলাদেশকে তারা বড়জোর পিতৃভূমি হিসেবে বিবেচনা করবেন। বাংলাদেশের প্রতি শেষোক্ত প্রজন্মের জন্মভূমির নাড়ির টান থাকবে না। কিন্তু পিতৃভূমি হওয়ার কারণে বিশেষ দরদ ঠিকই থাকবে। তাদের মনের এই টানকে ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের। প্রবাসীরা দেশে আসলে আমরা যেরূপ তাঁদেরকে ‘মুরগি’ বানিয়ে ফেলি সেটি চলতে থাকলে এই টান কমবে বৈ বাড়বে না। আর প্রবাসীরা দেশে আসলে যদি ভাল পরিবেশ, ব্যবহার পান তাহলে এই টান বাড়বে। প্রবাসীদের টান বজায় থাকার অর্থ দেশের উন্নয়ন। এখনও ইংল্যান্ডে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা যেরূপ ভালবাসার দায় বহন করে চলেছেন সেই দায় এখন আমাদের গ্রহণ করার সময় এসেছে। আসুন প্রবাসীদের মনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করি।
বৃটিশÑবাংলা এডুকেশন ট্রাষ্ট সহযোগিতা প্রদানের যে ক্ষেত্র তৈরি করলেন সেটিকে উদাহরণ মেনে এলাকায় এলাকায় তদ্রুপ জনহিতকর কাজের ক্ষেত্র আবিষ্কার করে প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করার জন্য আমরা সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শিক্ষার প্রসারে এখনও আমাদের এলাকায় কাজ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এই এলাকায় বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিনিয়োগের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের এলাকায় এখন দারিদ্রতার প্রকোপ দৃশ্যমান। দরিদ্র মানুষের আবাসন সংকট প্রকট। এইসব জায়গায় সহযোগিতার উদার হাত নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য আমরা প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানাই।
বৃটিশÑবাংলা এডুকেশন ট্রাষ্ট কারিগরি কলেজ স্থাপনের যে ঘোষণা দিয়েছেন সেটি যাতে জগন্নাথপুর অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি অপরিহার্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে সেজন্য ট্রাষ্টীগণকে আন্তরিক থাকার আহ্বান আমাদের। দেশে যারা ওই প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িত থাকবেন তাঁদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে প্রবাসীদের ওই কীর্তিকে উজ্জ্বল করার।

