প্রভাষক যখন ইউপি চেয়ারম্যান

এনামুল হক, ধর্মপাশা
তিনি একই সাথে স্থানীয় একটি কলেজের প্রভাষক ও একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। জনপ্রতিনিধি হিসেবে একই সাথে দুটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও তিনি কলেজ থেকে যেমনি তার বেতন উত্তোলন করছেন তেমনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রাপ্ত সম্মানীর টাকাও উত্তোলন করে চলেছেন। কলেজে পাঠদান অপেক্ষা ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে সুবিধা বেশি থাকায় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের কাজেই বেশি সময় ব্যয় করছেন। প্রায়ই বিনানুমতিতে কলেজ কামাই করা এমন প্রভাষকের নাম সঞ্জয় রায় চৌধুরী। তিনি ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ব্যবসা ও উদ্যোগ বিষয়ের প্রভাষক এবং জয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।
জানা যায়, সঞ্জয় রায় চৌধুরী বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালের ৪ জুন আওয়ামী লীগের মনোয়ন পেয়ে জয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কলেজে প্রায়ই অনুপস্থিত থেকে নিয়মিত বেতন উত্তোলনসহ ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানীর টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করে যাচ্ছেন। যা সংশ্লিষ্ট কলেজ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি বিশ্বস্থ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সঞ্জয় রায় চৌধুরী গত শনিবার থেকে কলেজ বাদ দিয়ে বিনানুমতিতে কুমিল্লায় অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (বার্ড) তিন দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণে ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন, ইউএনও মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমানসহ আরও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাও তাঁর সাথে রয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জয়শ্রী ইউনিয়নের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানিয়েছেন, সঞ্জয় রায় চৌধুরী ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ নয়-ছয় করে বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে (পিআইসি) নিজস্ব লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত করে সুবিধা নিচ্ছেন। সরকারি দলের সাথে সম্পৃক্ততা থাকায় তার অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যাচ্ছে না।
বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও জয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সঞ্জয় রায় চৌধুরী বলেন, ‘একই সাথে কলেজের বেতন ও ইউনিয়ন পরিষদের ভাতা উত্তোলনের বিধান রয়েছে। আমার মতো আরও অনেকেই তা করছে। কলেজে সপ্তাহে ছয়দিন যাওয়ার কথা থাকলেও যেদিন ক্লাস থাকে সেদিন কলেজে যাই।’
বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘তিনি (সঞ্জয়) নিয়মিত কলেজে আসেন এবং কলেজের বেতন উত্তোলন করেন। চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি (সঞ্জয়) সম্মানী উত্তোলন করেন না।’
ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানীর টাকা ওই চেয়ারম্যান উত্তোলন করছেন নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে অন্য কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই। কলেজে পড়ালে তাঁকে এমনিতেই পড়াতে হবে। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’